কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা :বর্ধমান , ২০ অগস্ট:
বর্ধমান শহরের পারবীরহাটায় স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তি সরিয়ে তৈরি করা হয়েছিল বহুতল ভবন। সেই বহুতলের অর্ধেক জুড়ে চলছিল বিরিয়ানির দোকান। দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও নোটিস অমান্যের পর অবশেষে মঙ্গলবার বর্ধমান পুরসভা বুলডোজ়ার চালিয়ে গুঁড়িয়ে দিল ওই বেআইনি ‘বিরিয়ানি স্টোর’।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রায় ৩০ বছর আগে বর্ধমানের তেলিপুকুর রোডের ধারে নেতাজি সংঘ নামে একটি একতলা ক্লাবঘর তৈরি হয়েছিল। ক্লাবঘরের সামনেই বসানো ছিল স্বামী বিবেকানন্দের পূর্ণাবয়ব মূর্তি। কিন্তু কয়েক বছর আগে সেই মূর্তিটি সরিয়ে ওই জায়গায় উঠে দাঁড়ায় তিনতলা একটি বিল্ডিং। উপরের তলায় চলছিল ক্লাবের কাজকর্ম, আর নীচের দুটি তলায় শুরু হয় বিরিয়ানির ব্যবসা।
বর্ধমান পুরসভার দাবি, ওই বহুতল নির্মাণের জন্য প্রশাসনের কাছ থেকে কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। এমনকি পুরসভার তরফে একাধিকবার কাজ বন্ধ রাখার নোটিস ধরানো হলেও তা অমান্য করা হয়। বর্ধমান পুরসভার ল অফিসার তন্ময় তা জানান, “একটি বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে হাত মিলিয়ে বেআইনি ভাবে এই বিল্ডিং গড়ে তোলে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। কোনও বৈধ নথিই নেই। এমনকি হাই কোর্টে স্টে-অর্ডার নেওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু ব্যর্থ হয়। এর পর পুরবোর্ড সর্বসম্মতিক্রমে ভবন ভাঙার সিদ্ধান্ত নেয়।”
পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশ চন্দ্র সরকার বলেন, “ওই জায়গায় সরকারি জমির উপরে ক্লাব তৈরি হয়েছিল। আমরা আইনানুগ পদ্ধতিতে সব রকম ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বেআইনি নির্মাণ ও মূর্তি সরানোর মতো ঘটনা আমরা মেনে নিতে পারিনি। তাই বাধ্য হয়ে ভবন ভাঙার পদক্ষেপ করা হয়েছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তি সরিয়ে বিরিয়ানির হাঁড়ি বসানো হয়েছিল, যা বর্ধমানবাসীর কাছে গভীর দুঃখের কারণ ছিল। মানুষ এ ধরনের কাজ কখনও মেনে নেবে না।”
এলাকাবাসীর একাংশ জানান, শুরু থেকেই তাঁরা এই অনৈতিক কাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন। তবে প্রভাবশালী মহলের চাপে সেই প্রতিবাদ চাপা পড়ে যায়। তাঁদের মতে, পুরসভার পদক্ষেপে অবশেষে ন্যায় প্রতিষ্ঠা হলো।
বর্ধমান পুরসভার এই পদক্ষেপ শুধু বেআইনি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কড়া অবস্থানকেই সামনে আনল না, একই সঙ্গে শহরের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক চেতনাকেও রক্ষা করল। স্থানীয়দের আশা, ভবিষ্যতে ওই জায়গায় ফের স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তি বসানো হবে।




