কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা , ২০ অগস্ট:
ভোটার তালিকায় নাম তুলতে আবেদন খারিজ হয়ে গেলে দীর্ঘদিন ধরে আর কোনও পথ খোলা থাকত না। এবার সেই নিয়ম ভাঙল নির্বাচন কমিশন। নতুন নিয়মে আবেদন বাতিল হলেও অনলাইনে আপিল করার সুযোগ থাকছে। আপিল যাবে সরাসরি জেলা নির্বাচন আধিকারিকের কাছে। আর সেখানেও যদি খারিজ হয়, তবে দ্বিতীয় দফায় আপিল যাবে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) কাছে। ভোটদাতাদের স্বার্থে এই পরিবর্তনকে যুগান্তকারী বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
১৮ বছর হলেই সারা বছর ধরেই অনলাইনে ভোটার তালিকায় নাম তোলার আবেদন করা যাচ্ছে। এর জন্য এখন আর কারও কাছে ছুটতে হচ্ছে না। ফর্ম-৬ পূরণ করে ছবি–সহ সমস্ত তথ্য জমা দিলেই হবে। আবেদন কোন পর্যায়ে রয়েছে, তাও অনলাইনে ট্র্যাক করা সম্ভব।
কিন্তু এতদিন পর্যন্ত BLO স্তরে আবেদন খারিজ হয়ে গেলে আর ফেরার পথ থাকত না। সমন না পেলেও বা নোটিস হাতে না এলেও খারিজ হয়ে যেত আবেদন। ফলে অনেকেরই ভোটার তালিকায় নাম ওঠার স্বপ্ন অপূর্ণ থাকত। এবার সেই পথ বন্ধ হলো।
আপিলের নতুন ধাপ
-
প্রথম ধাপ: অনলাইন আবেদন খারিজ হলে সঙ্গে সঙ্গে অনলাইনে আপিল করা যাবে। এই আপিল সরাসরি পৌঁছবে জেলা নির্বাচন আধিকারিকের কাছে।
-
দ্বিতীয় ধাপ: জেলা স্তরেও যদি আবেদন খারিজ হয়, তবে ফের অনলাইনে আপিল করা যাবে। এ বার তা সরাসরি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) কাছে পৌঁছবে।
-
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: CEO আবেদন খতিয়ে দেখে তা মঞ্জুর বা বাতিল করবেন। মঞ্জুর হলে নাম উঠবে ভোটার তালিকায়।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, আবেদন খারিজ হলে অধিকাংশ মানুষ আর আপিল করেন না। যেমন, মহারাষ্ট্রে গত বিধানসভা ভোটের সময় জেলা স্তরে মাত্র ৮০টি আপিল জমা পড়েছিল। CEO স্তরে কিন্তু একটিও যায়নি। ফলে হাজার হাজার সম্ভাব্য ভোটার বাদ পড়ে যান।
নোয়াপাড়ার বাসিন্দা আইনজীবী সুশান্ত সাহা জানান, ‘‘গত বছর মেয়ের নাম ভোটার তালিকায় তোলার জন্য অনলাইনে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু খারিজ হয়ে যায়। পরে জানতে পারি, ইআরও সমন করেছিলেন। অথচ আমি নোটিসই পাইনি, যদিও আবেদন ফর্মে ই-মেল ও মোবাইল নম্বর দিয়েছিলাম। এবার নতুন নিয়মে আমাদের মতো বহু মানুষই উপকৃত হবেন।’’
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ শুধু ভোটার তালিকায় নাম তোলার প্রক্রিয়াকে সহজ করবে না, বরং গণতান্ত্রিক অধিকার আরও সুরক্ষিত করবে। ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার যে আশঙ্কা এতদিন ছিল, তা অনেকটাই দূর হবে।




