কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা , ২০ অগস্ট:
বহুলচর্চিত সারদা চিট ফান্ড কাণ্ডে নতুন মোড়। রাজ্যের তরফে হেস্টিংস থানায় দায়ের হওয়া তিনটি পৃথক মামলায় সারদা গ্রুপের কর্ণধার সুদীপ্ত সেন ও তাঁর সহযোগী দেবযানী মুখোপাধ্যায়কে বেকসুর খালাস দিল ব্যাঙ্কশাল আদালত। তবে এই রায় তাঁদের জন্য তাৎক্ষণিক মুক্তির দরজা খুলে দিচ্ছে না, কারণ অন্য একাধিক মামলায় এখনও তাঁরা অভিযুক্ত এবং বিচারাধীন।
সুদীপ্ত ও দেবযানীর বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছিলেন তিনজন আমানতকারী। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে থানায় এফআইআর হয়। বিচার প্রক্রিয়ায় মোট ৫০ জন সাক্ষীর তালিকা তৈরি হলেও, মাত্র ১৫ জন সাক্ষ্য দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ—প্রমাণ এবং সাক্ষ্য-সাপেক্ষে অভিযোগের যথেষ্ট ভিত্তি মেলেনি। ফলে তাঁদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।
যদিও এই খালাস মানেই মুক্তি নয়। এখনও সুদীপ্ত ও দেবযানীর বিরুদ্ধে সিবিআই ও ইডির একাধিক মামলা চলছে। কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলি সারদা কাণ্ডে আর্থিক দুর্নীতি, অর্থপাচার এবং বিনিয়োগকারীদের প্রতারণার বিষয়ে পৃথক তদন্ত চালাচ্ছে। ফলে সংশোধনাগারেই তাঁদের অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
২০১৩ সালে সারদা চিট ফান্ড কাণ্ডে দেশজুড়ে আলোড়ন পড়ে। হাজার হাজার আমানতকারীর টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। ঘটনার জেরে আত্মহত্যা করেছিলেন বহু সাধারণ মানুষ। তদন্তে উঠে আসে, সুদীপ্ত সেন ছিলেন গোটা কেলেঙ্কারির মূলচক্রী, আর তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন দেবযানী মুখোপাধ্যায়। পুলিশ তাঁদের কাশ্মীরের সোনমার্গ থেকে গ্রেপ্তার করে।
২০২৩ সালে দেবযানী মুখোপাধ্যায়কে কয়েক ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে তিনি ও সুদীপ্ত সেন কলকাতার সংশোধনাগারে বন্দি। আদালতের এ দিনের রায় নিঃসন্দেহে তাঁদের আইনি লড়াইয়ে এক স্বস্তি এনে দিয়েছে, কিন্তু মুক্তির সম্ভাবনা আপাতত দূরবর্তী।
সারদা মামলায় আংশিক খালাস পেলেও, সুদীপ্ত সেন ও দেবযানীর সামনে এখনও দীর্ঘ আইনি লড়াই বাকি। বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরত দেওয়া ও চূড়ান্ত দায় নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত মামলার ছায়া এঁদের পিছু ছাড়ছে না।




