spot_img
25 C
Kolkata
Sunday, December 7, 2025
spot_img

সীমান্ত সমস্যার সমাধানে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ, ভারত-চিন যৌথ বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত !

কলকাতা টাইমস নিউজ  : আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ২০ অগস্ট:

দীর্ঘ চার বছরের উত্তেজনা ও টানাপোড়েনের পর সীমান্ত সমস্যার সমাধানে এক বড় পদক্ষেপ নিল ভারত ও চিন। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বেজিংয়ের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-এর বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সীমান্ত নির্ধারণ ও ব্যবস্থাপনায় যৌথভাবে কাজ করতে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করবে দুই দেশ। এই কমিটি প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (LAC) বরাবর অমীমাংসিত ইস্যুগুলির সমাধানের দিশা দেখাবে।

বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত নির্ধারণে বিশেষজ্ঞ কমিটি তৈরির পাশাপাশি সীমান্ত রক্ষণাবেক্ষণ ও নজরদারির জন্য আলাদা ওয়ার্কিং গ্রুপ তৈরি করা হবে। তিনটি অঞ্চল—পশ্চিম, পূর্ব ও মধ্যাঞ্চল—ভিত্তিক আলোচনায় অংশ নেবেন দুই দেশের সেনা আধিকারিকরা। পাশাপাশি কূটনৈতিক ও সামরিক স্তরে নিয়মিত বৈঠক চালু থাকবে।

এছাড়া, ২০২০ সালের করোনা ও গালওয়ান সংঘর্ষের পর থেকে স্থগিত থাকা ভারত-চিন সরাসরি বিমান পরিষেবা ফের শুরু হতে চলেছে। ধর্মীয় পর্যটকদের সুবিধার জন্য কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার দিকেও একমত হয়েছে দুই দেশ।

২০২০ সালের জুন মাসে গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষের পর ভারত-চিন সম্পর্ক কার্যত তলানিতে ঠেকে। দুই দেশই বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েন করেছিল সীমান্তে। সেই সময় থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অচলাবস্থায় চলে যায়। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ধীরে ধীরে সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চালায় দুই পক্ষ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক টানাপোড়েন যখন চরমে, তখন চিনের সঙ্গে এই উদ্যোগ মোদী সরকারের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষত, আমেরিকা ভারতের উপরে পরপর দুই দফায় মোট ৫০ শতাংশ ট্যারিফ চাপানোর পর চিনের সঙ্গে নতুন করে সহযোগিতার বার্তা অনেক তাৎপর্য বহন করছে।

মঙ্গলবারের বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়েছে, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য বাস্তব পদক্ষেপ নেবে দুই দেশ। আসন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলন নিয়েও সহমত হয়েছে দুই পক্ষ। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী চিন সফরে যাবেন SCO সামিটে যোগ দিতে। এছাড়া, ২০২৬ সালের BRICS সম্মেলন ভারতে এবং ২০২৭ সালের BRICS সম্মেলন চিনে অনুষ্ঠিত হবে—এই দু’টি আন্তর্জাতিক আয়োজন সফল করতে পরস্পরকে সমর্থন করবে ভারত ও চিন।

মূল সিদ্ধান্ত এক নজরে

  • সীমান্ত নির্ধারণে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন।

  • সীমান্ত রক্ষণাবেক্ষণে আলাদা ওয়ার্কিং গ্রুপ।

  • পশ্চিম, পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলে সেনাদের পৃথক বৈঠক।

  • উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক ও সামরিক স্তরে আলোচনা।

  • সরাসরি বিমান পরিষেবা পুনরায় চালু।

  • কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার ভিসা সহজলভ্য হবে।

  • বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে নতুন উদ্যোগ।

এই বৈঠককে দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলানোর নতুন সূচনা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সীমান্ত সমস্যা মেটানোর পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এই পদক্ষেপ যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে, সে বিষয়ে একমত কূটনৈতিক মহল।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,800SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks