কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা : নয়াদিল্লি, ১৬ অগস্ট:
রাজধানীর ময়দানগড়ির খারক গ্রামে ঘটল চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড। শুক্রবার এক বন্ধ বাড়ি থেকে উদ্ধার হলো এক দম্পতি ও তাঁদের তরুণ ছেলের রক্তাক্ত, থেঁতলানো দেহ। নিখোঁজ বাড়ির ছোট ছেলে সিদ্ধার্থ সিং। পুলিশ মনে করছে, এই ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ডের পিছনে তিনিই থাকতে পারেন।
প্রতিবেশীরা প্রথমে বাড়ি থেকে আসা পচা দুর্গন্ধ টের পান। তড়িঘড়ি খবর দেন পুলিশে। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকেই পুলিশের নজরে আসে নারকীয় দৃশ্য। বাড়ির মেঝেতে পড়ে রয়েছে ৫০ বছরের প্রেম সিং ও তাঁর ছেলে ঋত্বিক সিংয়ের (২৪) রক্তাক্ত দেহ। দোতলা থেকে উদ্ধার হয় গৃহবধূ রজনী সিংয়ের (৪৫) মৃতদেহ। তিনটি দেহই ছিল নৃশংসভাবে থেঁতলানো, শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন। রজনী সিংয়ের দেহ উদ্ধারের সময় তাঁর হাত ও মুখ বাঁধা অবস্থায় ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘর থেকেই উদ্ধার হয়েছে ইট ও পাথরের টুকরো, যা দিয়েই দেহগুলি থেঁতলানো হয়েছে বলে মনে করছে তদন্তকারীরা। পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র ব্যবহারেরও প্রমাণ মিলেছে। ঘটনাস্থল থেকে হাতের ছাপসহ একাধিক নমুনা সংগ্রহ করছে ফরেন্সিক টিম। মৃতদেহগুলি ইতিমধ্যেই ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দম্পতির ছোট ছেলে সিদ্ধার্থ সিং গত ১২ বছর ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তাঁর চিকিৎসা চলছিল ইনস্টিটিউট অফ হিউম্যান বিহেভিয়ার অ্যান্ড অ্যালাইড সায়েন্সেস (IHBAS)-এ। বাড়ি থেকে তাঁর বেশ কিছু পুরনো প্রেসক্রিপশনও উদ্ধার করেছে পুলিশ। চিকিৎসার নথি অনুযায়ী, সিদ্ধার্থ অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডারে (OCD) আক্রান্ত ছিলেন।
প্রতিবেশী এক ব্যক্তির দাবি, কিছুদিন আগে সিদ্ধার্থ তাঁকে জানিয়েছিলেন যে তিনি বাবা, মা ও দাদাকে খুন করেছেন এবং আর ওই বাড়িতে থাকবেন না। এই বক্তব্য পুলিশের সন্দেহকে আরও জোরালো করেছে। বর্তমানে সিদ্ধার্থ সিংয়ের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে দিল্লি পুলিশ।
এলাকার মানুষ এমন নারকীয় হত্যাকাণ্ডে স্তম্ভিত। শান্ত গ্রামে এমন ঘটনা ঘটবে কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে।
দিল্লির এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড আবারও প্রশ্ন তুলছে শহরজুড়ে পারিবারিক সহিংসতা, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা এবং অপরাধ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে।




