কলকাতা টাইমস নিউজ : ডেস্ক : ১৬ অগস্ট:
দুর্গাপুজোর ছুটিতে বেড়াতে যাওয়ার ইচ্ছে কার না হয়! কিন্তু পুজোর আগেই ট্রেন বা বিমানের টিকিট মেলে না বললেই চলে। অনেকেই তাই ভ্রমণ পরিকল্পনা করে উঠতে পারেন না। তবে মন খারাপের কিছু নেই—নিজের গাড়ি বা ভাড়া করা চারচাকায় চেপেই ঘুরে আসা যায় পশ্চিমবঙ্গের কাছাকাছি অনেক নিরিবিলি, ছবির মতো সুন্দর জায়গা। কলকাতা থেকে সহজেই সড়কপথে পৌঁছে যাওয়া যায় এমন কিছু গন্তব্যের খোঁজ রইল –
ভালুখোপ (কালিম্পং)
যাঁরা পাহাড়প্রেমী, তাঁদের জন্য নিখুঁত জায়গা ভালুখোপ।কালিম্পংয়ের কাছে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫ হাজার ফুট উঁচুতে ছোট্ট এক গ্রাম। পর্যটকের ভিড় কম, তাই প্রকৃতির আসল রূপ এখানে পাওয়া যায়।
📍 দূরত্ব: কলকাতা থেকে ৬২৮ কিমি
🛣️ রুট: নিউ জলপাইগুড়ি হয়ে কালিম্পং থেকে ভালুখোপ
✨ দর্শনীয় স্থান: ডেলো পাহাড়, বুদ্ধমূর্তি, হনুমান মন্দির
মুরগুমা (পুরুলিয়া)
অযোধ্যা পাহাড়ের কোলে সবুজে ঘেরা নিরিবিলি গ্রাম মুরগুমা। ঝাড়খণ্ড-পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তে অবস্থিত এই এলাকা প্রকৃতিপ্রেমীদের স্বর্গ। কলকাতা থেকে দূরত্ব প্রায় ৩৩০ কিমি। পাহাড়ি পথ, জঙ্গল ও গ্রাম্য পরিবেশ মিলিয়ে এখানে কাটানো কয়েকটা দিন ভোলার নয়।
তাবাকোশি (দার্জিলিং জেলা)
মিরিক থেকে মাত্র ৮ কিমি দূরত্বে ছোট্ট সাজানো গ্রাম তাবাকোশি। কলকাতা থেকে দূরত্ব ৬০১ কিমি। গোপালধারা টি এস্টেটের কাছে অবস্থিত এই গ্রাম একেবারে নিরিবিলি, ভিড় এড়িয়ে কিছুটা সময় প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটাতে চাইলে তাবাকোশি আদর্শ জায়গা।
বাংরিপোসি (ওড়িশা)
বাংলার বাইরে গিয়ে একটু অন্যরকম অভিজ্ঞতা চাইলে ওড়িশার বাংরিপোসি ভালো গন্তব্য। ওড়িশার ঠাকুরানি রেঞ্জের কোলে বাংরিপোসি প্রকৃতি প্রেমীদের স্বর্গ। নদী, পাহাড় আর ঘন জঙ্গল মিলিয়ে ছবির মতো সুন্দর জায়গা। কলকাতা থেকে দূরত্ব ২২০ কিমি। এনএইচ-৬ ধরে বাহারগোড়া ও জামসোলা পেরিয়ে পৌঁছানো যায়।
আরও কিছু সহজ গন্তব্য
- শান্তিনিকেতন (বীরভূম): রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত এই বিশ্ববিদ্যালয় শহর পুজোর সময় ভ্রমণের জন্য আদর্শ। প্রকৃতি, কীর্তন, মেলা আর শান্ত পরিবেশ মিলিয়ে অনন্য অভিজ্ঞতা। (দূরত্ব: ১৬০ কিমি)
- ঝাড়গ্রাম: মোগলমারির বৌদ্ধবিহার, জঙ্গলমহলের সৌন্দর্য, এবং ঝাড়গ্রাম প্যালেস—সব মিলিয়ে ছোট্ট ট্রিপের জন্য অসাধারণ জায়গা। (দূরত্ব: ১৭৮ কিমি)
- বকিপুর (বাঁকুড়া): সাঁওতাল পরগনার ছোঁয়া, টেরাকোটা শিল্পের গ্রাম আর লালমাটির পথ—বাঁকুড়ার এই দিক এখনও অজানা অনেকের কাছে। (দূরত্ব: ২২০ কিমি)
- তাজপুর (পূর্ব মেদিনীপুর): দীঘার ভিড় এড়াতে চাইলে শান্ত সৈকত তাজপুর যেতে পারেন। (দূরত্ব: ১৮০ কিমি)
- গড়পঞ্চকোট (পুরুলিয়া): পাহাড়, জঙ্গল আর প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ মিলিয়ে রহস্যময় পরিবেশ। অযোধ্যা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এই এলাকা এখন ভ্রমণকারীদের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়। (দূরত্ব: ২৫০ কিমি)
পুজোর ভিড় এড়াতে চান? তাহলে এ বছর ট্রেন বা ফ্লাইটের টিকিট না পেয়ে মন খারাপ করার কোনও কারণ নেই। চারচাকায় চেপে এই গন্তব্যগুলির মধ্যে থেকে যেকোনও একটিকে বেছে নিন, আর পুজোর ছুটিতে কাটিয়ে আসুন স্মরণীয় কয়েকটি দিন।




