কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা : কলকাতা, ২১ অগস্ট:
গঙ্গার তীরবর্তী প্রাচীন ফেরিঘাটগুলির মধ্যে অন্যতম বরাহনগরের কুঠিঘাট। বহু দশক ধরে যাত্রীদের যাতায়াতের অন্যতম ভরসা এই ঘাট। কুঠিঘাট থেকে সরাসরি লঞ্চে বেলুড় পৌঁছনো যায়। বেলুড় মঠে যাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাট হওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই ফেরিঘাট ব্যবহার করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই অবহেলিত অবস্থায় পড়েছিল কুঠিঘাট। ফেরিঘাটের ছাদ ভাঙা, জীর্ণ কাঠামো, বৃষ্টির দিনে চুঁইয়ে জল পড়া—সব মিলিয়ে সমস্যায় পড়ছিলেন নিত্যযাত্রীরা।
অবশেষে পুজোর আগে কুঠিঘাট সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্যের পরিবহণ দপ্তর। দপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী, শুক্রবার অর্থাৎ আগামী ২২ অগস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ১৫ দিনের জন্য কুঠিঘাট সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এই সময় যাত্রীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে। কুঠিঘাট থেকে অল্প হাঁটাপথে রতনবাবুর ঘাট থেকে যাত্রীরা লঞ্চে বেলুড় যেতে পারবেন।
প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলাচল করে এই লঞ্চ পরিষেবা। প্রায় ২০ মিনিট অন্তর দুই ঘাটের মধ্যে লঞ্চ চলাচল করে। গড়ে প্রতিদিন দু’হাজারেরও বেশি যাত্রী এই রুট ব্যবহার করেন। বিশেষত বেলুড় মঠে উৎসব বা বিশেষ অনুষ্ঠানের সময় যাত্রী ভিড় কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সেই কারণেই এই ঘাট সংস্কারের জন্য বহুদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা।
পরিবহণ দপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী, কুঠিঘাটে যে কর্মীরা কাজ করেন, তারা এই ১৫ দিন রতনবাবুর ঘাটে বসেই পরিষেবা চালাবেন। বরাহনগর পুরসভার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নিবেদিতা বসাক বলেন, “পুজোর আগেই কুঠিঘাট সংস্কারের কাজ শেষ হয়ে যাবে। নতুন রূপে ফেরিঘাট যাত্রীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বেলুড় মঠ সংলগ্ন একাধিক ফেরিঘাট সংস্কার হলেও বরাহনগরের কুঠিঘাট এতদিন অবহেলিত ছিল। অবশেষে সরকারের এই উদ্যোগে খুশি তাঁরা। তবে সংস্কারের সময়কালে যাত্রীদের কিছুটা অসুবিধা হলেও বিকল্প ব্যবস্থা থাকায় ভোগান্তি কিছুটা হলেও কমবে বলেই আশা।
কুঠিঘাট সংস্কারের পর আধুনিক অবকাঠামো ও সৌন্দর্যায়নের মাধ্যমে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য বাড়বে বলেই মনে করছে পরিবহণ দপ্তর।




