কলকাতা টাইমস নিউজ : কলকাতা , ২১ অগস্ট:
বই প্রকাশে নক্ষত্র সমাবেশ, আলোচনায় জীবনের ‘যদি’ ও ‘অথবা’ বিস্তারিত দেবজিৎ গাঙ্গুলীর কলমে –
জীবনের প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি সিদ্ধান্তের মোড়ে একটা না একটা “যদি” বা “অথবা” আমাদের পথ রুদ্ধ করে দেয়। কখনও সেই যদি আমাদের এগিয়ে দেয়, কখনও আবার আটকে রাখে অপূর্ণতার আকাশে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ কলকাতার এক অভিজাত বুক স্টোরে প্রকাশিত হল সুদীপ্ত চৌধুরী ও জয় কিং বীর্জের যৌথ রচনা ‘লাইভ উইদাউট ইফ’— যা পাঠকের কাছে শুধু একটি বই নয়, বরং জীবনবোধের নতুন এক দিশা।
বৃষ্টি ভেজা শহরের এক কোণে জমায়েত হয়েছিলেন সাহিত্যপ্রেমী, চলচ্চিত্র-ব্যক্তিত্ব থেকে শুরু করে সমাজের বিশিষ্টজনেরা। বইয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে পাওয়ার পাবলিশার্স অ্যান্ড মোশন পিকচার্স , যাদের নাম আজ শক্তিশালী সাহিত্য, অনুপ্রেরণাদায়ক চলচ্চিত্র ও সৃজনশীল ভাবনার সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন সঞ্চয়িতা, যিনি তাঁর পরিমিত অথচ আভিজাত্যপূর্ণ উপস্থাপনায় সন্ধ্যাটিকে এক অন্য মাত্রা এনে দেন।
‘লাইভ উইদাউট ইফ’ কেবল গল্প নয়— এটি জীবনের সেই অদৃশ্য দোলাচলগুলির কথা বলে, যেখানে মানুষ প্রায়শই “যদি” শব্দে বন্দি হয়ে পড়ে। লেখকেরা তাঁদের কলমে দেখিয়েছেন, কীভাবে সেই সংশয় কাটিয়ে মানুষ ফিরে আসতে পারে আত্মবিশ্বাসে, জীবনের ছন্দে।
বইটি একদিকে যেমন ভয়ের সঙ্গে লড়াই করার শক্তি জোগায়, অন্যদিকে মনে করিয়ে দেয় রবীন্দ্রনাথের চিরন্তন বাণী— “যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী ও পরিচালক সুদেষ্ণা রায়, যিনি বলেন— “জীবনে যদি না থাকলে, জীবনটাই নিস্তেজ হয়ে যায়। এই বই আমাদের সেই বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায়।”
অভিনেত্রী দেবলীনা দত্ত বইটির প্রসঙ্গে ব্যক্তিগত অনুভূতি ভাগ করে নেন। তাঁর কথায়— “এই বই যেন আমারই জীবনের কথা বলে। পড়তে পড়তে ফেলে আসা দিনগুলো মনে পড়ে গেল, এক অদ্ভুত নস্টালজিয়ায় ভরে উঠলাম।”
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ সাংবাদিক বিপ্লব গাঙ্গুলী, লেখক ও বক্তা পার্থ সিনহা, আইএএস অফিসার সঞ্জয় বসু, এবং ভাস্কর লেট (সহ-সম্পাদক, সংবাদ প্রতিদিন)। সকলে মিলে আলোচনা করেন, কীভাবে সাহিত্য জীবনের বাস্তবতা ও অনুভূতিকে নতুন আলোয় উন্মোচিত করতে পারে।
বই প্রকাশের মুহূর্তে একে একে যখন সবাই নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিচ্ছিলেন, তখন বোঝা যাচ্ছিল— ‘লাইভ উইদাউট ইফ’ নিছক বই নয়, বরং জীবনদর্শনের এক আয়না। শব্দগুলো আর শুধু বাক্য নয়, তারা যেন রূপ নেয় অনুভূতির, চিন্তার এবং স্মৃতির।
সেদিনের সন্ধ্যা তাই শুধু এক সাহিত্যিক অনুষ্ঠান নয়— ছিল এক যাত্রা, যা পাঠককে নিয়ে গেল জীবনের অপূর্ণতা থেকে প্রাপ্তির দিগন্তে।




