কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা : নয়াদিল্লি, ১৬ অগস্ট:
আন্তর্জাতিক চাপকে উপেক্ষা করে জ্বালানি সুরক্ষার স্বার্থে দৃঢ় অবস্থান নিল ভারত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত ৫০ শতাংশ ট্যারিফের বোঝা বহন করেও রাশিয়ার সঙ্গে অপরিশোধিত তেলের বাণিজ্য বন্ধ করেনি নয়াদিল্লি। বরং এবার রাশিয়া দিল আরও বড় প্রস্তাব – ভারতীয় ক্রেতাদের জন্য অপরিশোধিত তেলের দামে ৫ শতাংশ ছাড়।
বুধবার এ প্রসঙ্গে ঘোষণা করেন ভারতে নিযুক্ত রাশিয়ার ডেপুটি ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ ইয়েভগেনি গ্রিভা। তিনি বলেন, “ভারতকে অপরিশোধিত তেলের দামে ৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে। তবে সেটি হবে পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে।”
গ্রিভা জানান, আন্তর্জাতিক চাপে অন্য দেশগুলির অবস্থান বদলালেও ভারত রাশিয়া থেকে একই হারে অপরিশোধিত তেল কিনে চলেছে।
এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার ডেপুটি চিফ অফ মিশন রোমান বাবুশকিনও। তিনি বলেন, “ভারতের পরিস্থিতি যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং হলেও দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। যত চাপই আসুক, রাশিয়া-ভারতের জ্বালানি সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিযোগ, রাশিয়ার থেকে তেল কিনে আসলে ইউক্রেন যুদ্ধ চালানোর জন্য মস্কোকে অর্থ জোগাচ্ছে ভারত। সেই কারণেই ভারতীয় পণ্যের উপরে ৫০ শতাংশ ট্যারিফ চাপিয়েছেন তিনি। হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিনা লেভিট বলেন, “রাশিয়াকে আলোচনার টেবিলে আনতে চাপ সৃষ্টি করাই লক্ষ্য। তাই ভারত-সহ মস্কোর মিত্রদের উপরে অতিরিক্ত ট্যারিফ চাপানো হয়েছে।”
তবে নয়াদিল্লির অবস্থান একেবারে স্পষ্ট। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের কৃষক ও সাধারণ মানুষের স্বার্থরক্ষার প্রশ্নে কোনও আপোস করবে না ভারত। ভারত সরকার ট্রাম্পের পদক্ষেপকে ‘অন্যায্য, অযৌক্তিক এবং অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা শুধু জ্বালানি বাজার নয়, আন্তর্জাতিক কূটনীতিরও বড় ইঙ্গিত বহন করছে। মার্কিন চাপের মধ্যেও ভারত-রাশিয়া সহযোগিতা অব্যাহত থাকায় মস্কো-দিল্লি সম্পর্কের দৃঢ়তা আরও একবার স্পষ্ট হলো। অপরদিকে, মার্কিন ট্যারিফের চাপে ভারতের রপ্তানি খাতে চাপ বাড়লেও, রাশিয়ার দেওয়া ছাড় কিছুটা হলেও সুরাহা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক তেলবাজারে অস্থিরতা চললেও ভারত এ মুহূর্তে কৌশলগতভাবে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাইছে। আগামী দিনে এই ছাড় কতটা কার্যকর হবে এবং মার্কিন চাপ কতটা মোকাবিলা করা যাবে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে বিশ্ব।




