কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা : নয়াদিল্লি, ২১ অগস্ট:
নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করল বিরোধী শিবির। বৃহস্পতিবার ‘I N D I A’ জোটের উপরাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী, প্রাক্তন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বি. সুদর্শন রেড্ডি আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর মনোনয়নপত্র জমা দিলেন। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে, কংগ্রেস সংসদীয় পার্টির চেয়ারপার্সন সনিয়া গান্ধী এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।
Courtesy ANI -X
মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়ে জোটের একাধিক প্রভাবশালী নেতা হাজির ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন এনসিপি (শরদচন্দ্র পাওয়ার গোষ্ঠী)-র প্রধান শরদ পাওয়ার, সমাজবাদী পার্টির সাংসদ রাম গোপাল যাদব, ডিএমকে সাংসদ তিরুচি শিবা এবং শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে গোষ্ঠী)-র সাংসদ সঞ্জয় রাউত। তাঁদের উপস্থিতি গোটা অনুষ্ঠানকে রাজনৈতিক গুরুত্বে ভরিয়ে তোলে।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বি. সুদর্শন রেড্ডি বলেন, “আমি কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নই। তাই আমি আশা করি, সকলেই আমাকে সমর্থন করবেন। এই নির্বাচন কেবল সংখ্যার লড়াই নয়, এটি মতাদর্শের লড়াই।”
নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে এবং সেদিনই ভোটগণনা সম্পন্ন করা হবে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল ২১ আগস্ট। প্রার্থীরা চাইলে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারবেন।
গত ২১ জুলাই সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই পদত্যাগ করেন তৎকালীন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়। স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তিনি ওই পদ ছাড়েন। এর ফলে শূন্য হওয়া পদ পূরণ করতে নির্বাচন কমিশন এই প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
সংবিধানের ৬৪ ও ৬৮ অনুচ্ছেদ এবং ১৯৫২ সালের রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী এই নির্বাচন পরিচালিত হয়। লোকসভা ও রাজ্যসভার সদস্যরা মিলেই একটি নির্বাচকমণ্ডলী গঠন করেন, যারা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেন। এখানে প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন ও সিঙ্গল ট্রান্সফারেবল ভোট পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়।
‘I N D I A’ জোট মনে করছে, বিচারপতি হিসেবে বি. সুদর্শন রেড্ডির নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি এবং মতাদর্শগত অবস্থান তাঁকে এক গ্রহণযোগ্য প্রার্থী করে তুলেছে। তাঁদের বিশ্বাস, কেবল বিরোধী শিবির নয়, শাসক শিবির থেকেও সমর্থন আসতে পারে।




