কলকাতা টাইমস নিউজ :ডেস্ক :২২ অগস্ট:
আটটি মামলায় জামিন পেলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, তবে এখনও মুক্তি নয় কারাবাস থেকে
পাকিস্তানের রাজনীতির রণাঙ্গনে আবারও বড় মোড়। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে আটটি মামলায় জামিন দিল দেশের সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবারের এই রায়কে তাঁর দল পিটিআই (পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ) ‘‘একটি বড় জয়’’ হিসেবে দেখছে। তবে জামিন মিললেও ইমরান এখনই জেলমুক্ত হচ্ছেন না, কারণ এখনও একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
২০২৩ সালের ৯ মে ইসলামাবাদ হাই কোর্ট চত্বর থেকে ইমরান খানকে গ্রেফতার করে রেঞ্জার্স বাহিনী। মুহূর্তে উত্তাল হয়ে ওঠে পাকিস্তান। লাহৌর, করাচি, রাওয়ালপিন্ডি-সহ একাধিক শহরে নেমে আসে পিটিআই-সমর্থকেরা। প্রতিবাদ দ্রুত হিংসাত্মক রূপ নেয়। লাহৌরে একমাত্র শহরেই প্রায় ১০ হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করতে হয় পুলিশের।
আদালতের পাল্টাপাল্টি সিদ্ধান্ত
হাই কোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট—ইমরানের আইনজীবীরা বারবার জামিনের জন্য নড়া–চড়া করেছেন।
-
২৪ জুন: লাহৌর হাই কোর্ট ইমরানের জামিন খারিজ করে।
-
আগে: সুপ্রিম কোর্ট ইমরানের গ্রেফতারকে ‘‘অবৈধ’’ ঘোষণা করে তাঁকে অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছিল।
-
এ বার: সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির বেঞ্চ—প্রধান বিচারপতি ইয়াইয়া আফ্রিদি, বিচারপতি মুহাম্মদ শফি সিদ্দিকি এবং বিচারপতি মিয়াঙ্গুল হাসান ঔরঙ্গজ়েব—আটটি মামলায় জামিন মঞ্জুর করেন।
ইমরান কেবলমাত্র মে-হিংসার মামলায় নয়, আল কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে ১৪ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিরও সাত বছরের জেল হয়েছে। ফলে জামিন হলেও এই মামলার রায়ের কারণে আপাতত মুক্তি পাচ্ছেন না তাঁরা।
সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে ঘিরে উচ্ছ্বসিত পিটিআই। দলের তরফে সামাজিক মাধ্যমে বলা হয়েছে, ‘‘এটি ইমরান খানের জয়, গণতন্ত্রের জয়।’’ দলের তরফে প্রকাশিত একটি ভিডিয়ো বার্তায় ইমরান বলেন –
‘‘সবসময় মনে রাখবেন, রাত যত অন্ধকার হয়, সকাল আসতে তত দেরি হয় না।’’
এই বার্তাকে তাঁর সমর্থকেরা লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রেরণা হিসেবে দেখছেন।
২০১৮ সালের অগস্ট থেকে ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইমরান। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই তিনি বিরোধীদের নিশানায়। একাধিক দুর্নীতি মামলা, রাষ্ট্রদ্রোহ, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট—সব মিলিয়ে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার অভিযোগ তুলেছে তাঁর দল। তবে বারবার আইনি লড়াইয়ে আংশিক সাফল্য ইমরানকে ও তাঁর সমর্থকদের নতুন উদ্যম জোগাচ্ছে।




