spot_img
29 C
Kolkata
Tuesday, April 21, 2026
spot_img

ইসলামাবাদ–বেজিং–ঢাকা: দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন সমীকরণের গুঞ্জন !

কলকাতা টাইমস নিউজ  : নিজস্ব সংবাদদাতা :ঢাকা  ,২২ অগস্ট:

 

ক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন এক কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি হতে চলেছে কি? ইসলামাবাদ এবং বেজিং-এর ঘনিষ্ঠতা ঘিরে ত্রিদেশীয় জোটের গুঞ্জন আরও জোরালো হচ্ছে। এ বার সেই আবহেই চিন সফরে গিয়েছেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। অন্য দিকে পাকিস্তানে রয়েছেন চিনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই। সব মিলিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন জোট রাজনীতির সম্ভাবনা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।

প্রায় এক দশক ধরে সার্ক কার্যত নিষ্ক্রিয়। আঞ্চলিক সহযোগিতার সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে পাকিস্তান ও চিন চাইছে একটি নতুন ‘কৌশলগত জোট’। ঢাকায় নিযুক্ত চিনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সম্প্রতি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়েই ইসলামাবাদ ও বেজিং এই জোট গড়তে চায়। পাকিস্তানের নেতৃত্বে এই উদ্যোগে বাংলাদেশকে যুক্ত করতে মরিয়া বেজিং কূটনৈতিক স্তরে চাপও বাড়াচ্ছে।

বাংলাদেশ একাধিকবার জানিয়ে দিয়েছে, তারা কোনও নতুন আন্তর্জাতিক জোটের অংশ হতে আগ্রহী নয়, বিশেষত যদি তা আঞ্চলিক ভারসাম্য নষ্ট করে। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বেজিংকে সরাসরি এবং কূটনৈতিকভাবে জানানো হয়েছে, ঢাকার অবস্থান নিরপেক্ষ। তবে কূটনৈতিক মহলের মতে, পাকিস্তান ও চিনের তরফে চাপ অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জনসংযোগ দফতরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জেনারেল ওয়াকার চিনা সামরিক এবং অসামরিক উচ্চপদস্থ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করবেন। দ্বিপাক্ষিক সামরিক সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তি বিনিময় নিয়েই আলোচনা হবে বলে জানা গিয়েছে। তবে ত্রিদেশীয় জোট প্রসঙ্গে সরাসরি কিছু বলা হয়নি। তবু বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইসলামাবাদ–বেজিং–ঢাকার এই সমান্তরাল কূটনৈতিক যাত্রাপথ নিছক কাকতালীয় নয়।

চিনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই বর্তমানে পাকিস্তান সফরে। ভারত সফর শেষে আফগানিস্তান হয়ে বুধবার তিনি ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী তথা উপপ্রধানমন্ত্রী ইশাক দার। আবার আগামী শনিবার তিনিই ঢাকা সফরে আসছেন। ফলে ওয়াকার-উজ-জামানের চিন যাত্রা, ওয়াং ই-র পাকিস্তান সফর এবং ইশাক দারের ঢাকা সফর—সবকিছু মিলে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাকিস্তান–চিন চাইছে ভারতের প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করতে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন জোট গঠন করতে। বাংলাদেশ সেই জোটে যোগ দেবে কি না, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন। ঢাকার নীতিনির্ধারকরা আপাতত সতর্ক, তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, চাপের মুখে পড়লেও বাংলাদেশ কূটনৈতিকভাবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করবে।

 

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,900SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks