কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা ,২২ অগস্ট:
ভোটার তালিকা নিয়ে কারচুপির অভিযোগে অবশেষে কঠোর পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনেই রাজ্যের চার সরকারি আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়েছে। মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ জানিয়ে দিয়েছেন, চার আধিকারিকের বিরুদ্ধেই ডিপার্টমেন্টাল প্রসিডিং (DP) শুরু করা হবে। যদিও আপাতত তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হচ্ছে না।
কিছুদিন আগেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরের দু’টি করে মোট চার আধিকারিক—যাঁদের মধ্যে দু’জন ইআরও (Electoral Registration Officer) ও দু’জন এআরও (Assistant Electoral Registration Officer)—এর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। অভিযোগ, তাঁরা ভোটার তালিকা প্রস্তুত প্রক্রিয়ায় নিয়ম বহির্ভূত কাজ করেছিলেন। কমিশন নবান্নকে ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়েছিল।
কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনও পদক্ষেপ না হওয়ায় ১৩ অগস্ট মুখ্যসচিবকে দিল্লিতে ডেকে পাঠায় কমিশন। সেখানেই জানানো হয়, রাজ্যকে অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে। কমিশন ২১ অগস্ট পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল। সেই সময়সীমা পেরোনোর আগেই চার আধিকারিককে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত জানাল রাজ্য সরকার।
উল্লেখযোগ্য, বিহারে বিধানসভা ভোটের আগে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR) কাজ। প্রাথমিক স্তরের কাজও শেষ হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও খুব শীঘ্রই শুরু হবে এই প্রক্রিয়া। তাই নির্বাচন কমিশন চাইছে, ভোটার তালিকা তৈরি প্রক্রিয়া যাতে কোনওভাবেই প্রশ্নের মুখে না পড়ে।
এই পদক্ষেপে শাসক তৃণমূল কংগ্রেসও প্রশ্ন তুলেছে। তাঁদের দাবি, ভোটের এত আগে সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে। অন্যদিকে বিরোধীরা বলছে, কমিশনের সিদ্ধান্তই প্রমাণ করছে ভোটার তালিকা নিয়ে গড়মিল হচ্ছে এবং তার দায় এড়াতে পারবে না রাজ্য সরকার।
নবান্ন সূত্রে খবর, আপাতত এফআইআর দায়ের না হলেও চার আধিকারিকের ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক জীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল। কমিশন ও রাজ্য সরকারের নজরদারির মধ্যে তাঁদের কাজের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে। মুখ্যসচিবের নির্দেশেই এখন ডিপার্টমেন্টাল প্রসিডিং চালানো হবে।




