কলকাতা টাইমস নিউজ : আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা : মস্কো, ২২ অগস্ট:
বার্লিন–বেইজিং সম্পর্কের নতুন মোড় ?
ইউক্রেন যুদ্ধ ক্রমশ দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ভাডেফুল (Johan Wadephul) জানিয়েছেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে চীন যদি নেতৃত্বমূলক ভূমিকা নিতে আগ্রহ দেখায়, তবে ইউরোপীয় দেশগুলো তাকে স্বাগত জানাবে। বর্তমানে এশিয়া সফরে থাকা ভাডেফুল ইন্দোনেশিয়ায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমন মন্তব্য করেন।
ভাডেফুল বলেন, “ রাশিয়ার উপর যতটা প্রভাব চীনের আছে, ততটা আর কোনও দেশের নেই। এখনও দেরি হয়নি। এখনো চীন চাইলে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে উদ্যোগী হতে পারে।”
তিনি আরও যোগ করেন, চীন বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্র, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য এবং বিশাল অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী। “আমরা দীর্ঘদিন ধরেই বেইজিংকে আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেন এই প্রভাব কাজে লাগিয়ে যুদ্ধ থামাতে ভূমিকা রাখে।”
এবারই সম্ভবত প্রথমবার কোনও পশ্চিমা সরকার প্রকাশ্যে চীনকে ইউক্রেন সংকটে ইতিবাচক ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানাল। এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা বিশ্ব চীনকে বরাবরই সন্দেহের চোখে দেখেছে—রাশিয়ার ‘ঘনিষ্ঠ মিত্র’ হিসেবেই বেইজিংকে আখ্যা দিয়েছে তারা।
তবে ভাডেফুলের এই বক্তব্য কূটনৈতিক মহলে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়ায় সফরকালে ভাডেফুল জানান, তিনি ইতিমধ্যেই চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-কে (Wang Yi) শান্তি প্রক্রিয়ার প্রস্তাব জানিয়েছেন। ভাডেফুল বলেন, “আমার অনুরোধ যদি বেইজিংয়ে গুরুত্ব সহকারে শোনা হয়, তবে তা হবে নিরাপত্তা ও শান্তির পথে এক বড় পদক্ষেপ।”
তিনি আরও বলেন, “এখন পুরো বিশ্ব অপেক্ষা করছে—প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কি সত্যিই যুদ্ধ শেষ করার জন্য প্রস্তুত? দুঃখজনক হলেও বাস্তবতা হলো, যুদ্ধক্ষেত্রে এখনও সে রকম কোনও ইতিবাচক পরিবর্তন নেই। ”
জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অবস্থান। “ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি একাধিকবার জানিয়েছেন, তিনি সরাসরি পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসতে প্রস্তুত। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপস্থিতিতে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকেও রাজি আছেন। কিন্তু পুতিনের পক্ষ থেকে এখনো কোনও ‘হ্যাঁ’ আসেনি। ”
বিশ্লেষণ
-
চীনকে ঘিরে দ্বিধা : পশ্চিমা বিশ্বের চোখে চীন এতদিন রাশিয়ার ‘সহযোগী’ ছিল। তবে ইউক্রেন শান্তি আলোচনায় চীনকে অন্তর্ভুক্ত করা হলে কূটনৈতিক সমীকরণ বদলে যেতে পারে।
-
ইউরোপের চাপ : যুদ্ধ দীর্ঘ হলে ইউরোপীয় অর্থনীতি ও নিরাপত্তা আরও চাপে পড়বে। তাই জার্মানি চাইছে নতুন সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারীকে কাজে লাগাতে।
-
মূল অনিশ্চয়তা : পুতিন যদি আলোচনায় আগ্রহ না দেখান, তবে চীনের কূটনৈতিক উদ্যোগও ব্যর্থ হতে পারে।
জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বার্তা পশ্চিমা কূটনীতিতে নতুন দিশা দেখাচ্ছে। চীন যদি সত্যিই মধ্যস্থতায় রাজি হয় , তবে ইউক্রেন যুদ্ধের সমাপ্তির পথে এটি হতে পারে এক বড় বাঁক। তবে সেই পথ কতটা বাস্তবায়িত হবে , তা নির্ভর করছে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সিদ্ধান্তের উপর।




