কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা, ২২ আগস্ট :
বাংলা সিনেমার ঐতিহ্য, শিল্পভাবনা ও স্বল্পদৈর্ঘ্যের শক্তিকে তুলে ধরতে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হল ‘পিডিএফ শর্টস ৩.০’— দিল্লির প্রথম বাংলা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসবের তৃতীয় সংস্করণ। আয়োজক পূর্ব দিগন্ত ফাউন্ডেশন, যার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শুভাশিস গুপ্ত। দীর্ঘদিন ধরে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা, শিল্পচর্চা ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের কাজ করে আসা এই সংস্থাটি এবারও বাংলা চলচ্চিত্রকে কেন্দ্রে রেখে আয়োজন করল এক অনন্য উদ্যোগ।
পূর্ব দিগন্ত ফাউন্ডেশন বর্তমানে দিল্লি ও নয়ডার ২২ জন আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা ছাত্রছাত্রীর শিক্ষার দায়িত্ব বহন করছে। কেবল পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক শিক্ষা নয়, বরং মননের বিকাশ ও সাংস্কৃতিক সমন্বয়— এই দু’টিকেই সমান গুরুত্ব দিচ্ছে সংস্থাটি। সেই কারণেই চলচ্চিত্র উৎসবকে বেছে নেওয়া হয়েছে সাংস্কৃতিক প্রকাশ ও সামাজিক বার্তার হাতিয়ার হিসেবে।
এবারের উৎসব উৎসর্গ করা হয় কিংবদন্তি মহানায়ক উত্তম কুমার-কে, শিরোনাম ছিল “আমি উত্তম”। মহানায়কের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে এই শ্রদ্ধার্ঘ্য উৎসবকে আবেগঘন মাত্রা দিয়েছে।
মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন একঝাঁক বিশিষ্ট শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব—পরিচালক সুধীর মিশ্র, অভিনেত্রী দেবলীনা কুমার, প্রবীণ অভিনেতা বরুণ চন্দা, থিয়েটার শিল্পী চন্দন সেন, অভিনেতা দেবশঙ্কর হালদার, পরিচালক রেশমি মিত্র, এবং টেলিভিশনের জনপ্রিয় মুখ সুমোনা চক্রবর্তী (দ্য কপিল শর্মা শো খ্যাত)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিসেস পিয়ালী চক্রবর্তী এবং শ্রী সুপ্রিয় হালদার।
প্রদর্শিত চলচ্চিত্রগুলি
উৎসবে দর্শকরা উপভোগ করেন একাধিক ব্যতিক্রমী স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র—
-
‘সহচরী’ – অভিনয়ে মুনমুন সেন, পরিচালনা প্রিয়দর্শী বন্দ্যোপাধ্যায়
-
‘অক্যাগারি’ – অভিনয়ে দেবলীনা কুমার, পরিচালনা শমিক রায়চৌধুরী
-
‘সাহারা’ ও ‘ভালো আছি’ – পরিচালনা শুভ্র ঘোষাল
সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল কঙ্কনা চক্রবর্তী পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘রি-রাউটিং’, যা দিল্লিতে প্রথমবারের মতো প্রদর্শিত হয়। দেশজুড়ে বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসা কুড়োনো এই ছবি মূলধারার দর্শক মহলেও দাগ কেটেছে। ছবিটি উপস্থাপন করেন প্রবীণ অভিনেতা বরুণ চন্দা ও পরিচালক কঙ্কনা চক্রবর্তী।
তাছাড়া প্রদর্শিত হয়েছিল সুধীর মিশ্র পরিচালিত এক কালজয়ী হিন্দি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, যেখানে অভিনয় করেছেন চিত্রাঙ্গদা সিং, বিপিন শর্মা ও সুশান্ত সিং।
সংস্থার প্রধান শুভাশিস গুপ্ত জানান, “আমাদের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র সিনেমা দেখানো নয়, বরং বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে প্রবাসে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া। একই সঙ্গে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সামাজিক বার্তা ও মানবিক মূল্যবোধকে জাগিয়ে তোলা।”
পিডিএফ শর্টস শুধু একটি চলচ্চিত্র উৎসব নয়, বরং সংস্কৃতি ও সমাজের সেতুবন্ধন। বাংলা সিনেমার শিল্পকলা, সামাজিক বার্তা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এই ধরনের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ।




