কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা :মাদুরাই ,২২ অগস্ট:
তামিল সুপারস্টার থেকে রাজনৈতিক মঞ্চে — অভিনেতা বিজয় বৃহস্পতিবার ফের প্রমাণ করলেন, তিনি রাজনীতির খেলায়ও নায়ক হতে চান। তামিলাগা ভেট্রি কাজাগম (টিভিকে)-র দ্বিতীয় রাজ্যস্তরের সম্মেলনে দাঁড়িয়ে তিনি ঘোষণা করলেন, বিজেপি কিংবা ডিএমকে—কোনওরকম জোট নয়, আসন্ন ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দল একাই লড়বে।
বিজয় সাফ জানিয়ে দিলেন, তাঁর দলের লক্ষ্য রাজনীতির প্রচলিত সমীকরণ বদলে দেওয়া। “আমাদের একমাত্র আদর্শগত শত্রু বিজেপি। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ডিএমকে। কিন্তু টিভিকে কারও সঙ্গে আঁতাত করে না। আমরা জনতার পাশে দাঁড়াই, কোনও আন্ডারগ্রাউন্ড মাফিয়া ব্যবসা করি না,” — দৃঢ় কণ্ঠে জানালেন তিনি।
মাদুরাইয়ের জনসভায় দাঁড়িয়ে বিজয়ের ঘোষণা, “আমি শুধু একটি আসন থেকে নই, সমগ্র তামিলনাড়ুর প্রতিটি আসন থেকেই দাঁড়াব। টিভিকে-র প্রতিটি প্রার্থী মানে আমিই। ২৩৪টি আসনেই আমাদের লড়াই হবে।”
এই মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল। অনেকে বলছেন, রাজনীতিতে সুপারস্টারের এন্ট্রি যে ডিএমকে ও এআইএডিএমকে—দু’পক্ষের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে, তা এদিন স্পষ্ট হয়ে গেল।
জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে নিজের সিনেমার নায়কের ছোঁয়া আনলেন বিজয়। বললেন—
“একটি সিংহ একবার গর্জন করলে তার কম্পন আট কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়। জঙ্গলে যত শিয়ালই থাকুক, সিংহ কিন্তু একজনই থাকে।”
বক্তব্য শেষ হতেই জনতার করতালি ও উল্লাসে মঞ্চ কেঁপে ওঠে।
বিজয়ের অগণিত ভক্ত শুধু তাঁকে সিনেমার পর্দায় নয়, রাজনীতিতেও দেখতে চান নেতা হিসেবে। এদিনও সম্মেলনে হাজির হাজার হাজার অনুগামী, যাদের স্লোগানে একটাই কথা শোনা গেল — “মুখ্যমন্ত্রী বিজয়।”
রাজনৈতিক গুঞ্জনে উঠেছিল, টিভিকে হয়তো বিজেপি বা ডিএমকের সঙ্গে হাত মেলাতে পারে। কিন্তু বৃহস্পতিবারের সম্মেলনে সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি ঘোষণা করেন—
“২০২৬-এর লড়াই হবে সরাসরি টিভিকে বনাম ডিএমকে।”
বক্স আইটেম: বিজয়ের টিভিকে — এক ঝলক
-
প্রতিষ্ঠা : ২০২৪
-
প্রতিষ্ঠাতা : অভিনেতা বিজয়
-
লক্ষ্য : ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা
-
প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী : ডিএমকে (রাজনৈতিক), বিজেপি (আদর্শগত)
-
কৌশল : ২৩৪ আসনে লড়াই
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ফিল্মি সুপারস্টারের প্রভাব নতুন নয়। এমজিআর থেকে জয়ললিতা— ইতিহাসও তা প্রমাণ করেছে। এবার কি বিজয় সেই ধারায় নতুন অধ্যায় রচনা করবেন? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাঁর ভক্তবেস যদি ভোটবাক্সে রূপান্তরিত হয়, তবে তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক সমীকরণ আমূল বদলে যেতে পারে।




