কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা,২২ অগস্ট:
বিজেপি–র ভেতরের অন্দরে চাপানউতোর !
মোদীর সভায় হ্যাটট্রিক ব্রাত্য দিলীপ ঘোষ, বাড়ছে কৌতূহল
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভায় ‘উপেক্ষার হ্যাটট্রিক’ করলেন বিজেপি–র প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। আলিপুরদুয়ার ও দুর্গাপুরের পর এ বার দমদমেও মোদীর মঞ্চে জায়গা পেলেন না তিনি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—বঙ্গ বিজেপির ভেতরে আসলেই কি দিলীপকে ক্রমে দূরে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে?
গত ২৯ মে আলিপুরদুয়ারে এবং ১৮ জুলাই দুর্গাপুরে জনসভা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। দুই ক্ষেত্রেই বিজেপির প্রবীণ সাংসদ দিলীপ ঘোষকে আমন্ত্রণ করা হয়নি। শুক্রবার দমদম সেন্ট্রাল জেলের মাঠে মোদীর সভা ঘিরে বিজেপি শিবিরে ধারণা ছিল, এবার হয়তো ‘ভুল শুধরে’ ডাক আসবে দিলীপের কাছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি তৃতীয়বারের মতো ব্রাত্য।
রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য অবশ্য কূটনৈতিক ভাষায় বলেছেন,
“খুব তাড়াতাড়ি দিলীপ ঘোষকে আবার চেনা ছন্দে দেখা যাবে।”
তবে দিলীপ–ঘনিষ্ঠরা একেবারেই আশ্বস্ত নন। তাঁদের দাবি, মাস দুয়েক ধরে শমীক যে আশ্বাস দিয়ে চলেছেন, বাস্তবে তাতে কোনও উন্নতি হয়নি।
দুর্গাপুরের সভার আগে দিলীপ প্রকাশ্যে বলেছিলেন, শীর্ষ নেতৃত্ব ডাক না দিলেও কর্মীদের ডাকে তিনি যাবেন। যদিও শেষ মুহূর্তে মত বদলে জানান – “দলকে বিড়ম্বনায় ফেলতে চাই না।” এবার দমদম নিয়েও তিনি দ্বিধায়। সংবাদমাধ্যমকে দিলীপ বলেন,
“আমাকে আমন্ত্রণ করা হয়নি। যেতেও পারি, আবার না–ও পারি। আমি কোথায় যাব, সেটা আমিই ঠিক করব।”
রাজনৈতিক মহলের বিশ্লেষণ, দিলীপ ঘোষ একসময় রাজ্য বিজেপির মুখ ছিলেন। দলের ভোটবৃদ্ধি থেকে সংগঠনের বিস্তার—সবেতেই তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু গত কয়েক মাসে রাজ্য সংগঠনের দিকনির্দেশ ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বেড়েছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ জনসভা বা সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে তাঁকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।
দমদমে মোদীর সভায় দিলীপ যাবেন কি না, তা নিয়েই জল্পনা চরমে। একাংশ মনে করছে, দিলীপ নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে জনসভায় যেতে পারেন। আবার অন্য অংশের মতে, বারবার উপেক্ষার পরে তিনি দূরত্ব বজায় রাখতেই চাইবেন। যেটাই হোক না কেন, বঙ্গ বিজেপির অন্দরে দিলীপকে ঘিরে এই টানাপড়েন যে আগামী দিনে আরও মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠতে চলেছে, তা রাজনৈতিক মহল একবাক্যে স্বীকার করছে।
‘উপেক্ষার তিন কিস্তি’
-
২৯ মে, আলিপুরদুয়ার: মোদীর সভায় ডাক পাননি দিলীপ।
-
১৮ জুলাই, দুর্গাপুর: আবারও ব্রাত্য, শেষ মুহূর্তে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত।
-
২২ অগস্ট, দমদম: হ্যাটট্রিক পূর্ণ—তৃতীয়বার উপেক্ষিত।




