spot_img
25 C
Kolkata
Sunday, December 7, 2025
spot_img

ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি-সহ ৯৫ জনের জামিন, মুক্তির পরেই রাজ্যের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন আইএসএফ নেতা !

কলকাতা টাইমস নিউজ  : নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা ,২২ অগস্ট:


র্মতলার প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে গ্রেফতারের পর অবশেষে বৃহস্পতিবার জামিনে মুক্তি পেলেন ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি-সহ মোট ৯৫ জন সমর্থক। ব্যাঙ্কশাল আদালত তাঁদের জামিন মঞ্জুর করে। জেল থেকে বেরিয়ে আসার পরেই ক্ষোভ উগরে দেন নওশাদ। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “এই লড়াইকে বন্দি করা যাবে না। জনগণ লড়াই চালিয়ে যাবে। এটি কেবল শুরু।”

বুধবার ধর্মতলায় আয়োজিত কর্মসূচি থেকে নওশাদ-সহ ৯৫ জনকে গ্রেফতার করেছিল কলকাতা পুলিশ। হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ গ্রেফতার করে ৮৪ জনকে, বাকি ১১ জনকে আটক করে বৌবাজার থানার পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সাধারণ কর্মী ছাড়াও ছিলেন সরকারি স্কুলের শিক্ষক, বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীসহ অন্য পেশাজীবীরাও। বৃহস্পতিবার আদালতে পেশ করার পর সকলকেই জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।

জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর নওশাদ সাংবাদিকদের বলেন –

“জনগণের লড়াই কখনও থামানো যাবে না। জেলে আটকে রাখলেও আন্দোলন থামবে না। আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গ্রেফতারের সময় তাঁর প্রাণনাশের ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। এমনকি পুলিশের এক কর্মী তাঁকে ঘুষিও মেরেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

নওশাদদের মুক্তির দাবিতে বৃহস্পতিবারই উত্তাল হয়ে ওঠে হাওড়ার আমতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার সন্তোষপুর। সেখানে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান শতাধিক আইএসএফ কর্মী -সমর্থক। ব্যাঙ্কশাল আদালতের বাইরেও জড়ো হন কয়েকশো সমর্থক। তাঁদের অভিযোগ – ইচ্ছাকৃতভাবে নওশাদকে ফাঁসানো হয়েছে এবং তাঁকে রাজনৈতিকভাবে আক্রমণ করার চেষ্টা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, বুধবার  ‘ কনস্টিটিউশন প্রোটেকশন ফোরাম ’ -এর উদ্যোগে ধর্মতলায় ওয়াকফ সংশোধনী আইন, ওবিসি সংরক্ষণ-সহ একাধিক দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল। নওশাদের নেতৃত্বে মূলত আইএসএফ কর্মী-সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। কলকাতা মেট্রো চ্যানেলের কাছে ধর্নায় বসার পরিকল্পনা থাকলেও পুলিশের অনুমতি ছিল না। ত্রিপল খাটানোর চেষ্টা হতেই পুলিশ বাধা দেয়। সেখানেই শুরু হয় ধস্তাধস্তি। কেসি দাস মোড় থেকে পার্ক স্ট্রিটমুখী রাস্তায় ধাওয়া খায় বিক্ষোভকারীরা। নওশাদ-সহ কয়েকজনকে তখনই গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে ২০২৩ সালেও ধর্মতলার একটি কর্মসূচি ঘিরে আইএসএফের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। সেই ঘটনায় নওশাদকে ৫৬ দিন জেল খাটতে হয়েছিল। একাধিক মামলা হয়েছিল তাঁর বিরুদ্ধে। তবে এ বার একদিনের মধ্যেই মুক্তি পেলেন পীরজাদা বিধায়ক।
রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে – নওশাদকে কি উদ্দেশ্যমূলকভাবে নিশানা করা হচ্ছে? নাকি অনুমতি ছাড়া কর্মসূচি করার দায় এড়াতে চাইছে শাসক ও প্রশাসন ?

রাজ্য রাজনীতির অন্দরে এই ঘটনাকে ঘিরে চাপানউতোর আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,800SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks