কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা : মস্কো, ২২ অগস্ট:
ভারত ও রাশিয়া আগামী পাঁচ বছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছনোর উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য স্থির করেছে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে দুই দেশের নেতৃত্ব বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূর করা ও আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও সহজ করার ওপর জোর দিচ্ছে।
রাশিয়ার রাজধানীতে জয়শঙ্করের বার্তা – বৃহস্পতিবার মস্কোয় অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়া-রাশিয়া বিজনেস ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর বলেন,
“আমরা সবাই জানি, আমরা এক জটিল ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মিলিত হয়েছি। এই পরিস্থিতিতে নির্ভরযোগ্য ও স্থিতিশীল অংশীদার অত্যন্ত প্রয়োজন। ভারত ও রাশিয়া সেই ভূমিকা পালন করে চলেছে।”
তিনি উল্লেখ করেন, বাণিজ্য ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করতে হলে শুল্কবাধা, নিয়ন্ত্রক জটিলতা ও পেমেন্ট সমস্যা দূর করা জরুরি।
বর্তমানে রাশিয়া ভারতের চতুর্থ বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার, আর ভারত রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অংশীদার। দুই দেশ জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, কৃষি ও তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে নতুন যৌথ উদ্যোগে জোর দিতে চায়। দীর্ঘমেয়াদে সার সরবরাহ, ওষুধ শিল্পে সহযোগিতা এবং অবকাঠামো উন্নয়নে যৌথ বিনিয়োগকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
এমন এক সময়ে এই উদ্যোগ গৃহীত হচ্ছে, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যে শুল্কবৃদ্ধি চাপিয়ে দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন, যা বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এতে প্রায় ৮৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মার্কিন রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
জয়শঙ্করের এই সফরকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠ আলাপ-আলোচনার ধারাবাহিকতা বলে মনে করা হচ্ছে। শিগগিরই পুতিনের ভারত সফর নির্ধারিত রয়েছে। তার আগে মস্কোতে এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠককে দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার ভূমিকা বলেই কূটনৈতিক মহল মনে করছে।
ভারত-রাশিয়া বাণিজ্যে বৈচিত্র্য আনা, নতুন পেমেন্ট সিস্টেম চালু করা, যৌথ উদ্যোগ বাড়ানো এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করাই আগামী দিনের প্রধান লক্ষ্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব বাণিজ্যের অস্থির পরিবেশে এই অংশীদারিত্ব কেবল দুই দেশের জন্যই নয়, গোটা এশিয়ার অর্থনৈতিক ভারসাম্যের ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।




