কলকাতা টাইমস নিউজ : বিনোদন : মুম্বই ,২২ অগস্ট:
বলিউডের পরিচিত মুখ স্বরা ভাস্কর আপাতত আলোচনায় তাঁর রিয়েলিটি শো ‘পতি পত্নী অউর পঙ্গা’–কে ঘিরে। স্বামীর সঙ্গে রিয়েলিটি শো–এর মঞ্চে হাজির হয়ে দর্শকদের মন জিতলেও, সিনেমায় ফেরার তাড়া নেই তাঁর। মা হওয়ার পর জীবনের অগ্রাধিকার বদলেছে—খোলাখুলি জানালেন অভিনেত্রী।
স্বরা ও সমাজকর্মী স্বামী ফাহাদ আহমদের কোলজুড়ে কন্যাসন্তান রাবিয়া আসে ২০২৩ সালে। সেই মাতৃত্ব–অভিজ্ঞতাই বদলে দিয়েছে অভিনেত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি। ‘‘আমি একটা আইডেন্টিটি ক্রাইসিস–এর মধ্যে দিয়ে গিয়েছি। হয়তো সব মেয়েকেই যেতে হয়, কিন্তু সেটা কেউ আগে থেকে বোঝায় না। নিজে না হলে এই অভিজ্ঞতা বোঝা যায় না,’’ বলেন ৩৭ বছরের অভিনেত্রী।
তিনি জানান, সন্তান হওয়ার আগে জীবনে লক্ষ্য ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার পিছনে ছুটতেন নিরন্তর। “আমি এমন একজন মানুষ ছিলাম যে সবসময় কিছু না কিছু করতাম। শুটিং না থাকলেও প্রতিবাদে অংশ নিতাম, কিংবা প্রতিবাদের পরিকল্পনা করতাম। কিন্তু মা হওয়ার পর সবকিছু পাল্টে গেছে। সবচেয়ে কঠিন ব্যাপার ছিল নিজের পরিচয়কে নতুন করে চিনে নেওয়া।”
এখন তাঁর প্রতিদিনই সময় ভাগ হয়ে যাচ্ছে সন্তান ও কাজের মধ্যে। রিয়েলিটি শো–তে যোগ দেওয়া নিয়েও প্রথমে দোটানায় ছিলেন স্বরা। “শো–এর প্রস্তাব এলে আমার প্রথম প্রশ্ন ছিল—ক’দিন শুটিং করতে হবে? যখন শুনলাম সপ্তাহে মাত্র এক-দু’দিন, তখনই কনসেপ্টটা জানতে চাইলাম। কারণ আমি এখন ঘর ছাড়তে চাই না। শুটিংয়ের সময়ও আমি স্তন্যদান করছিলাম। সেই দায়িত্ব সামলে কাজ করা সত্যিই সহজ নয়,” অকপট স্বরা।
তিনি আরও বলেন, “আমি সিনেমার পিছনে ছুটছি না, যা একসময় করতাম। এখন আমি ছুটছি আর্থিক স্থিতিশীলতার দিকে। একজন মা হিসেবে আমি চাই, আমার সন্তানকে একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ দিতে। আমি আবার কাজ করব, কিন্তু কোথাও তাড়াহুড়ো করে ফিরতে চাই না। আমি মা হয়েছি, এ পরিচয় সারাজীবন আমার সঙ্গে থাকবে।”
অন্যদিকে, স্বামী ফাহাদ আহমদও প্রথমে শোতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তাঁর কথায়, “আমি তো এই জগতের মানুষই নই। তাই প্রথমে না বলেছিলাম। কিন্তু শুটিংয়ে এসে দেখলাম পরিবেশটা খুবই হালকা ও আনন্দময়। একসঙ্গে সব জুটিরা থাকলে সত্যিই মজা হয়।”
বলিউডে ‘তনু ওয়েডস মনু’, ‘নীল বট্টে সন্নাটা’, ‘প্রেম রতন ধন পায়ো’র মতো ছবিতে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন স্বরা ভাস্কর। তবে আপাতত মা হিসেবে নিজের নতুন অধ্যায়কে বেশি সময় দিতে চাইছেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য—‘‘ক্যারিয়ার অপেক্ষা করতে পারে, কিন্তু সন্তানের শৈশব নয়।”




