কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা :নয়া দিল্লি,২২ অগস্ট:
সংসদ চত্বরে গান–কবিতায় প্রতিবাদে তৃণমূল
বাংলা ভাষার অসম্মান ও বাঙালিদের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদে অভিনব কর্মসূচি
বাংলা ভাষার অসম্মান ও বাঙালিদের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদে বাদল অধিবেশনে তৃণমূল সাংসদদের অভিনব কর্মসূচ
বাদল অধিবেশনের শেষ দিন সংসদ ভবনের মকর দ্বারের সামনে হঠাৎ করেই ভেসে এল জীবনানন্দের কবিতার উচ্চারণ –
“চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা, মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য।”
রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠে ‘বনলতা সেন’-এর আবৃত্তি শুনে বিস্মিত সংসদ চত্বর। আর সেই আবৃত্তির পরেই তৃণমূল সাংসদরা একযোগে গেয়ে ওঠেন রবীন্দ্রনাথের গান— “বাংলার মাটি, বাংলার জল”।
এভাবেই বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার দাবিতে এবং বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালিদের উপর চলা নির্যাতনের বিরুদ্ধে সংসদের ভিতরে ও বাইরে অভিনব সাংস্কৃতিক প্রতিবাদে নামলেন তৃণমূল সাংসদরা।
প্রতিদিনই বাদল অধিবেশনে তৃণমূল সাংসদদের হাতে পোস্টার দেখা গিয়েছে। সংসদের করিডরে গাওয়া হয়েছে রবীন্দ্রসঙ্গীত। এ দিন গান–কবিতার মিশ্রণে প্রতিবাদ আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠল। সংসদ পরিক্রমায় অংশ নিলেন সাংসদ সাগরিকা ঘোষ, শর্মিলা সরকার, মমতাবালা ঠাকুর, মহুয়া মৈত্র, মৌসম নূর, ইউসুফ পাঠান, আবু তাহের খান, মিতালি বাগ, বাপি হালদার, দোলা সেন–সহ আরও অনেকে।
তাদের এই অভিনব কর্মসূচি নজর কাড়ল বিরোধীদেরও। বঙ্গ বিজেপির এক সাংসদ স্বীকার করলেন— “যেটা ভালো, তার প্রশংসা করতেই হবে। মনে–প্রাণে বাঙালি হওয়ায় ওঁদের সঙ্গে গলা মেলাতে ইচ্ছে করছিল। কিন্তু…”
এদিন শুধু গান–কবিতায় নয়, রাজ্যসভায়ও তৃণমূল সাংসদরা সরব হন। অধিবেশনের শুরুতেই ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলে ডেরেক ও’ব্রায়েনের নেতৃত্বে ওয়েলে নেমে প্রতিবাদ জানান তাঁরা। হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড— “তড়িপার গো ব্যাক”। সেই সময় সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ফলে মুহূর্তে গরম হয়ে ওঠে পরিবেশ। পাল্টা স্লোগানে সোচ্চার হয় ট্রেজারি বেঞ্চও।
তৃণমূলের মহিলা সাংসদরাও এ দিন গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। বুধবার লোকসভায় সংবিধান সংশোধনী বিলের সময় তাঁদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হয়েছে বলে লিখিত অভিযোগ করেছেন মিতালি বাগ, মহুয়া মৈত্র এবং শতাব্দী রায়। সূত্রের খবর, সেই চিঠিতে মিতালি অভিযোগ করেছেন, বিজেপি সাংসদ রভনীত সিং বিট্টু এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করেছেন।
তৃণমূলের এই সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন নজির গড়েছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের। সাধারণ স্লোগানের বাইরে গিয়ে গান ও কবিতার মাধ্যমে প্রতিবাদ পৌঁছে গিয়েছে আরও আবেগী উচ্চতায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের প্রতীকী আন্দোলন সরাসরি জনমানসে প্রভাব ফেলতে পারে।




