spot_img
25 C
Kolkata
Monday, February 16, 2026
spot_img

সুপ্রিম কোর্টের নতুন নির্দেশ: টিকা ও নির্বীজনের পরই মুক্তি পাবে পথকুকুর !

কলকাতা টাইমস নিউজ  : নিজস্ব সংবাদদাতা :নয়া দিল্লি,২২ অগস্ট:

পথকুকুর নিয়ে বিতর্কিত ৮ আগস্টের রায় সংশোধন করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিল, নির্বীজন, টিকাকরণ ও কৃমিনাশক ওষুধ প্রয়োগের পর পথকুকুরদের পুনরায় তাদের আগের এলাকােই ছেড়ে দিতে হবে। তবে যেসব কুকুর জলাতঙ্কে আক্রান্ত অথবা অতি আক্রমণাত্মক আচরণ প্রদর্শন করছে, তাদের আলাদা আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হবে।

তিন বিচারপতির বেঞ্চ— বিচারপতি বিক্রম নাথ, সন্দীপ মেহতা ও এন ভি অঞ্জারিয়ার— এই নতুন নির্দেশ দেন। এর আগে ৮ আগস্টের রায়ে বলা হয়েছিল, দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলের সব পথকুকুরকে আট সপ্তাহের মধ্যে সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হবে। সেই নির্দেশকে ঘিরে ব্যাপক জনঅসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। প্রাণীপ্রেমী সংগঠন ও সাধারণ মানুষ এর বিরুদ্ধে সরব হন। সেই প্রতিবাদের প্রেক্ষিতেই প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপে মামলাটি এই তিন বিচারপতির বেঞ্চে স্থানান্তরিত হয়।

নতুন নির্দেশে প্রাণীপ্রেমীদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের ঢেউ নেমেছে। তাঁদের মতে, কুকুরদের তাদের স্বাভাবিক পরিবেশ থেকে বঞ্চিত করা অনৈতিক। আদালতের এই রায়ে মানবিকতার সুরই জোরালো হয়েছে। তবে আদালত এক্ষেত্রে শর্তও বেঁধে দিয়েছে— প্রতিটি পথকুকুরকে যথাযথভাবে নির্বীজিত ও টিকা দেওয়ার পরই মুক্ত করা হবে।

Courtesey ANI – X

শুধু দিল্লি-এনসিআর নয়, এই মামলার পরিধি এখন গোটা দেশজুড়ে বিস্তৃত করা হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, বিস্তারিত শুনানির পর পথকুকুর নিয়ে একটি সর্বভারতীয় নীতি প্রণয়ন করা হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে এক নীতির আওতায় পথকুকুর সংক্রান্ত সমস্যা ও সমাধান দেশব্যাপী কার্যকর হবে।

নতুন নির্দেশের বিশেষ দিকসমূহ

  • সর্বজনীন খাওয়ানো বন্ধ: আদালত সাফ জানিয়েছে, রাস্তায় প্রকাশ্যে কুকুরদের খাওয়ানো যাবে না। প্রতিটি এলাকায় নির্দিষ্ট খাদ্যদান কেন্দ্র গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাস্তার ধারে কুকুরকে খাওয়ালে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • দত্তক নেওয়ার সুযোগ: প্রাণীপ্রেমীরা চাইলে কুকুর দত্তক নিতে পারবেন। তবে শর্ত, তাদের দায়িত্ব নিতে হবে যাতে সেই কুকুর আবার রাস্তায় না ফিরে যায়।

  • আর্থিক দায়বদ্ধতা: আদালত জানিয়েছে, যাঁরা এই বিষয়ে পিটিশন করেছেন তাঁদের প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে এবং সংশ্লিষ্ট এনজিওগুলিকে ২ লক্ষ টাকা করে জমা দিতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টের এই নতুন নির্দেশ একদিকে যেমন প্রাণীপ্রেমীদের দীর্ঘদিনের দাবিকে সম্মান জানিয়েছে, অন্যদিকে নাগরিক সুরক্ষার দিকটিও মাথায় রেখেছে। জলাতঙ্ক-আক্রান্ত বা হিংস্র কুকুরদের আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হবে, যাতে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়। আবার নির্বীজন ও টিকাকরণের মাধ্যমে জনবিস্তার রোধের পাশাপাশি রোগ সংক্রমণও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

এই রায় নিঃসন্দেহে একটি ভারসাম্যপূর্ণ পদক্ষেপ, যেখানে মানুষের নিরাপত্তা এবং প্রাণীর অধিকারের মধ্যে সমন্বয় ঘটেছে।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,800SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks