spot_img
17 C
Kolkata
Tuesday, January 20, 2026
spot_img

উত্তরাখণ্ডে ভয়াবহ মেঘভাঙা: চামোলিতে বিপর্যয়, এক জন আশঙ্কাজনকভাবে মৃত, ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ল শিশু !

কলকাতা টাইমস নিউজ  : নিজস্ব সংবাদদাতা :নয়া দিল্লি,২৩  অগস্ট:

ত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় ফের প্রাকৃতিক বিপর্যয়। শুক্রবার গভীর রাতে আকস্মিক মেঘভাঙা বৃষ্টি থরালি অঞ্চলকে কার্যত বিপর্যস্ত করে দেয়। ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়েছে এক কিশোরী, নিখোঁজ রয়েছেন এক ব্যক্তি। ইতিমধ্যেই রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF) এবং উদ্ধারকারী দল তৎপরতা শুরু করেছে।

স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, থরালি বাজার, কোটদীপ এলাকা এবং থরালি তহসিল কমপ্লেক্স মেঘভাঙার ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রবল জলের তোড়ে বাজার ও বাড়িঘরের পাশাপাশি সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেটের আবাসনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বহু দোকান মাটির স্রোতে ভেসে গিয়েছে, তহসিল চত্বরে দাঁড়িয়ে থাকা একাধিক গাড়ি কাদামাটির তলায় চাপা পড়ে।

চেপডাওন বাজারের বেশ কিছু দোকান ভেঙে পড়েছে ধস নামায়। রাস্তাঘাট কার্যত জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিয়োতে শোনা যায়, এক হতাশ স্থানীয় বাসিন্দা কাঁদো কাঁদো গলায় বলছেন— “মেরি কার ডুব গয়ি”।

রাত পেরিয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও SDRF। জেলা শাসক ডাঃ সন্দীপ তিওয়ারি জানান, দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধার কার্য চলছে। গৌচার থেকে পাঠানো হয়েছে SDRF-এর বিশেষ বাহিনী। প্রধান সড়কগুলিও মেঘভাঙার ধসের ফলে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। থরালি-গোয়ালডাম সড়ক মিঙ্গগেদেরা সংলগ্ন এলাকায় সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। থরালি-সাগওয়ারা রাস্তাও অবরুদ্ধ। সীমান্ত সড়ক সংস্থা (BRO) দল নামিয়ে ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ শুরু করেছে।

উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন—
“গতরাতেই চামোলি জেলার থরালি অঞ্চলে মেঘভাঙার খবর আসে। জেলা প্রশাসন, SDRF এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে ব্যস্ত। আমি নিজে নিয়মিত স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। সবার নিরাপত্তার জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছি।”

জেলা প্রশাসন শনিবার (২৩ আগস্ট) থরালি তহসিলের সব স্কুল ও আঙনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ এড়াতে বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

এই আকস্মিক মেঘভাঙা স্থানীয় মানুষকে তীব্র আতঙ্কে রেখেছে। যেকোনও মুহূর্তে নতুন করে ধস নামতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রশাসন ইতিমধ্যেই বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

চামোলিতে মেঘভাঙা নতুন নয়, তবে এবারের বিপর্যয় রাতারাতি বাজার থেকে তহসিল চত্বর পর্যন্ত জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত করে দিয়েছে।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,800SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks