কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা ,২৩ অগস্ট:
লোকসভায় কেন্দ্রীয় সরকারের পেশ করা ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিলকে ঘিরে ফের তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিরোধীরা দাবি করছে, এই বিল আদতে আদালতের ক্ষমতা এড়িয়ে বিরোধী-শাসিত রাজ্যগুলির সরকার ভাঙার অস্ত্র তৈরি করছে কেন্দ্র। আর এই ইস্যুতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আক্রমণের পাল্টা জবাবে সরব হল তৃণমূল কংগ্রেস।
শুক্রবার দমদম সেন্ট্রাল জেলের ময়দানে বিজেপির এক দলীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নাম না করে কটাক্ষ করেন রাজ্যের দুই প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে।
তিনি বলেন :
“সরকারি কর্মী যদি ৫০ ঘণ্টা জেলে থাকেন, তবে চাকরি হারান। কিন্তু একজন মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রী কি জেল থেকে সরকার চালাতে পারেন? তৃণমূলের এক মন্ত্রী শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে আজও জেলে রয়েছেন। তাঁর বাড়ি থেকে নোটের পাহাড় উদ্ধার হয়েছিল। অন্য এক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে রেশন কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে। কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এঁরা জেল থেকেও মন্ত্রীপদ আঁকড়ে ধরতে চেয়েছেন। এমন দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই।”
প্রধানমন্ত্রীর দাবি, এই কারণেই তৃণমূল ভয় পেয়ে সংবিধান সংশোধনী বিলকে সমর্থন করছে না।
তৃণমূলের পাল্টা আক্রমণ: “কাচের ঘরে বসে ঢিল”
মোদীর মন্তব্যের পাল্টা দিতে দেরি করেনি তৃণমূল। রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা কটাক্ষ করে বলেন-
“বিজেপির ২৪০ জন সাংসদের মধ্যে ৯৪ জন সাংসদের বিরুদ্ধেই ক্রিমিনাল কেস রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৬৩ জনের বিরুদ্ধে রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। প্রধানমন্ত্রী নিজে কাচের ঘরে বসে ঢিল ছুড়ছেন। তাঁর নিজের দলের সাংসদ ও নেতাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের উত্তর দিতে পারেননি। তাই অন্যের দিকে আঙুল তুলছেন।”
তৃণমূল আরও অভিযোগ করেছে, বিজেপি যেসব নেতাদের একসময় দুর্নীতির অভিযোগে কাঠগড়ায় তুলেছিল, তাঁদের অনেকেই পরে গেরুয়া দলে যোগ দিয়েছেন। তখন আর তাঁদের বিরুদ্ধে মুখ খোলে না বিজেপি।
অন্যদিকে রাজনীতিকদের একাংশ মনে করছেন, ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিলের মূল লক্ষ্য হল বিরোধী-শাসিত রাজ্যগুলিকে চাপের মুখে রাখা। অন্যদিকে বিজেপি বলছে, এটি দুর্নীতিগ্রস্ত শাসকদের ক্ষমতায় থাকার পথ রোধ করবে। তবে পরিসংখ্যান ঘেঁটে তৃণমূল দেখাচ্ছে, বিজেপির সাংসদদের বিরুদ্ধেই একাধিক অপরাধমূলক অভিযোগ রয়েছে।
সব মিলিয়ে বোঝা যায় , সংবিধান সংশোধনী বিলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা এখন চরমে। মোদীর সোজাসাপ্টা আক্রমণ এবং তৃণমূলের পাল্টা কটাক্ষ প্রমাণ করছে, আসন্ন দিনে এই ইস্যু ঘিরে আরও তীব্র হবে বিজেপি বনাম তৃণমূল দ্বন্দ্ব।




