কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা : ঢাকা ,২৩ অগস্ট:
সীমান্ত সমস্যার সমাধান খুঁজতে চারদিনের মঞ্চে মুখোমুখি দুই বাহিনী
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, সীমান্তে গুলি চালনা কিংবা সাধারণ মানুষের নিগ্রহ— একাধিক জ্বলন্ত সমস্যার প্রেক্ষিতে ফের মুখোমুখি হতে চলেছে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সবুজ সঙ্কেত মেলায় আগামী সোমবার, ২৫ অগস্ট থেকে ঢাকায় শুরু হচ্ছে বিএসএফ এবং বিজিবি-র মধ্যে নির্ধারিত ৫৬তম মহাসভার বৈঠক।
চারদিনব্যাপী এই বৈঠকে ভারতের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ডিজি দলজিত্ সিং চৌধরি। অপরদিকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি-র নেতৃত্বে থাকবেন মেজর জেনারেল মহম্মদ আসরাফুজ্জামান সিদ্দিকি। উভয় দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই বৈঠককে ঘিরে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে প্রত্যাশা।
নয়াদিল্লি সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে ভারতীয় প্রতিনিধিরা প্রথমেই তুলবেন সীমান্তে বিএসএফ জওয়ান এবং ভারতীয় নাগরিকদের উপর বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের নিগ্রহের ঘটনা। গত কয়েক মাসে পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক সীমান্তবর্তী এলাকায় এই ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিএসএফের অভিযোগ, এ বিষয়ে বিজিবি অনেক সময় প্রয়োজনীয় তৎপরতা দেখাচ্ছে না।
আলোচনার অন্য বিষয়
-
সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ
-
চোরাচালান চক্র
-
সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (Coordinated Border Management Plan বা CBMP) বাস্তবায়ন
-
দুই দেশের সীমান্তে গত কয়েক মাসে তৈরি হওয়া নতুন সমস্যার পর্যালোচনা
এর আগে চলতি বছরের ১৭ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে শেষবার বৈঠকে বসেছিল দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। সেখানেও উঠে এসেছিল অনুপ্রবেশ এবং চোরাচালানের মতো জটিল প্রশ্ন। এবার ঢাকার বৈঠকে দু’দেশের তরফে একটি স্টেটাস রিপোর্ট পেশ করা হবে, যাতে ফেব্রুয়ারির বৈঠকের পর বাস্তবে কতটা পরিবর্তন হয়েছে, কী কী সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে এবং কী কী ক্ষেত্রে উন্নতি হয়েছে তা তুলে ধরা হবে।
সরকারি সূত্রের দাবি, ঢাকার এই বৈঠক থেকেই তৈরি হতে পারে আগামী কয়েক মাসের জন্য সীমান্ত ব্যবস্থাপনার নয়া রূপরেখা। বিশেষ করে পাচার চক্র নিয়ন্ত্রণ, সীমান্তে টহল ও নজরদারি, এবং স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে আরও সমন্বয় তৈরির মতো বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
সীমান্তকে শান্তিপূর্ণ ও সুরক্ষিত রাখার স্বার্থে এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহল। কারণ ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক যতই সুদৃঢ় হোক না কেন, সীমান্তের অশান্তি দুই দেশের জন্যই উদ্বেগজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে।




