কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা ,২৩ অগস্ট:
নিউ গড়িয়ায় রুদ্ধশ্বাস খুনের ঘটনা : বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা, মাথায় আঘাতের চিহ্ন, দেহ উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টা আগেই খুন!
কলকাতা শহরের উপকণ্ঠ নিউ গড়িয়ার অভিজাত আবাসন ‘কুলু ভিলা’তে চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনা। স্থানীয় পঞ্চসায়র থানা এলাকায় এস-৩২ নম্বর কোঅপারেটিভে বসবাস করতেন অবসরপ্রাপ্ত বৃদ্ধ দম্পতি—পি কে দাস ও তাঁর স্ত্রী বিজয়া দাস (৭৯)। ছেলে কর্মসূত্রে ভিনরাজ্যে, মেয়ে থাকেন বিদেশে। বহুদিন ধরেই স্বামী-স্ত্রী একাই ছিলেন ওই বাড়িতে। বৃহস্পতিবার রাতে সেই বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয় তাঁদের দেহ। বৃদ্ধ বিজয়া দাসকে মৃত অবস্থায় ও স্বামীকে গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
শুক্রবার দুপুরে বিজয়া দাসের দেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। হাসপাতাল সূত্রে পাওয়া প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে এসেছে নৃশংসতার ছবি। চিকিৎসকদের বক্তব্য অনুযায়ী, শ্বাসরোধ করেই খুন করা হয়েছে তাঁকে। একইসঙ্গে মাথায় আঘাতের চিহ্নও রয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, বৃদ্ধাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করার পর মুখে কাপড় জাতীয় কিছু চেপে ধরা হয়েছিল। তার ফলেই মৃত্যু হয় তাঁর। রিপোর্টে এ-ও উল্লেখ রয়েছে, মৃতদেহ উদ্ধারের অন্তত ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টা আগে খুন করা হয়েছিল তাঁকে।
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার সকালে। পরিচারিকা প্রতিদিনের মতো কাজে এসে বারবার কলিং বেল বাজিয়েও কোনও সাড়া না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে তিনি প্রতিবেশীদের খবর দেন। তার পরেই পুলিশে খবর যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে। দেখা যায়, বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। বৃদ্ধা অনেক আগেই প্রাণ হারিয়েছেন, তবে বৃদ্ধ স্বামীকে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
খুনিদের পরিকল্পনার ইঙ্গিত মিলেছে ঘটনাস্থল থেকেই। তদন্তকারীরা দেখতে পান, বাড়ির ভিতরে লাগানো সিসি ক্যামেরার তার কেটে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, খুনের আগে থেকেই পুরো ঘটনা সুপরিকল্পিত ছিল। আততায়ীরা যেন কোনও প্রমাণ না রেখে যেতে পারে, সেজন্যই আগে ক্যামেরা অচল করে দেওয়া হয়েছিল।
পরিবারের দেখাশোনার জন্য সম্প্রতি এক জন আয়া নিয়োগ করা হয়েছিল। দিন পাঁচেক হলো তিনি ওই বাড়িতে কাজ করছিলেন। প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত থাকতেন তিনি। ঘটনার দিনও তিনি এসেছিলেন এবং তিনিই প্রথম প্রতিবেশীদের খবর দেন। যদিও আপাতত পুলিশ তাঁকে প্রাথমিক সাক্ষী হিসেবেই দেখছে, তবে তাঁর কোনও ভূমিকা রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, বাড়ি লুট করতে গিয়েই এই হত্যাকাণ্ড। মৃতার দেহ মিলেছে সিঁড়ির কাছে, আর বৃদ্ধ স্বামীকে উদ্ধার করা হয়েছে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ঘরের ভিতর থেকে। বাড়ি থেকে কী কী খোয়া গিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। টাকা-পয়সা ও গয়না হাতানোর জন্যই কি এই অপরাধ—তা নিয়েই চলছে তদন্ত।
ঘটনার খবর ছড়াতেই গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এমন ঘটনা এর আগে কখনও ঘটেনি। বাড়ির চারপাশে কড়া পুলিশি নিরাপত্তা বসানো হয়েছে। হোমিসাইড বিভাগের গোয়েন্দারা ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমেছেন। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়নি।
এই হত্যাকাণ্ড নিছক লুটপাটের জন্য নাকি এর পেছনে অন্য কোনও রহস্য লুকিয়ে আছে, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে। পুলিশ ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছে।




