কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা,২৩ অগস্ট:
দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি নতুন সমীকরণ নিয়ে বিস্তারিত দেবজিৎ গাঙ্গুলীর কলমে :
১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের পর দীর্ঘ অস্থির সম্পর্কের ইতিহাস। সেই ক্ষত আজও বহন করছে ঢাকা-ইসলামাবাদ কূটনীতি। অথচ সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তান দুই দেশই নতুন করে সম্পর্কের উষ্ণতা দেখাতে শুরু করেছে। এই পুনরায় ঘনিষ্ঠতা ভারতের কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা মহলে গুরুতর উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাদের বর্বরতা আজও বাংলাদেশের জাতীয় স্মৃতিতে জীবন্ত। মুক্তিযোদ্ধা ও বেঁচে থাকা মানুষদের বক্তব্য— “অত্যাচারের কোনও তুলনা ছিল না।” সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী কয়েক লক্ষ মানুষ নিহত হলেও বাংলাদেশের দাবি, প্রকৃত সংখ্যা কয়েক মিলিয়ন। এই গণহত্যার ক্ষতই এতদিন দুই দেশের সম্পর্ককে গলদঘর্ম করে রেখেছিল।
সেই অন্ধকার ইতিহাস পেরিয়ে বর্তমানে ইসলামাবাদ-ঢাকা সম্পর্ক আবার উষ্ণ হতে শুরু করেছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পালাবদলের পর পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান বৃহস্পতিবার ঢাকায় পৌঁছেছেন। শনিবার পৌঁছানোর কথা পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশাক দারের। লক্ষ্য—দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুনভাবে গড়ে তোলা।
এই সফরের মাধ্যমে পাকিস্তান স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের প্রভাবকে তারা চ্যালেঞ্জ করতে চায়।
নতুন দিল্লির কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘনিষ্ঠতা ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ –
-
একদিকে চীন, অন্যদিকে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ—তিন দেশের সম্পর্ক মজবুত হলে ভারতের চারপাশে চাপ বাড়বে।
-
বিশেষ করে “সিলিগুড়ি করিডর” বা “চিকেনস নেক” অংশটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে বাকি দেশের একমাত্র স্থলযোগ এই সরু করিডর দিয়েই। শত্রুপক্ষের কোনও চাপ বা অবরোধ ভারতের নিরাপত্তায় বিপুল সংকট ডেকে আনতে পারে।
-
ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের শীর্ষ গুপ্তচর সংস্থার আধিকারিকরা একাধিকবার বাংলাদেশ সফর করেছেন। ভারতীয় গোয়েন্দা মহলের আশঙ্কা, এসব সফরের লক্ষ্য ভারতবিরোধী কৌশল রচনা।
ওয়াশিংটনভিত্তিক বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান এক মন্তব্যে বলেছেন, “বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ভারতের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী সহযোগী ছিল। অথচ এখন তারা ভারতের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করছে।”
এই অবস্থায় ভারতের উদ্বেগ স্বাভাবিক। প্রতিরক্ষা মহলের মতে, পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে ঢাকার নৈকট্য ভারতের সীমান্তে নজরদারি ও সামরিক চাপ আরও বাড়িয়ে তুলবে।
কূটনীতিকদের ধারণা, আগামী দিনে ঢাকা-ইসলামাবাদ সম্পর্ক আরও গাঢ় হলে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি নতুন সমীকরণে পৌঁছাবে। ফলে ভারতের কৌশলগত অবস্থান ও নীতি-পরিকল্পনা কতটা দ্রুত বদলাতে হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।




