কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা :ঢাকা ,২৩ অগস্ট:
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কঠোর বার্তা দিল দেশের সংবাদমাধ্যমকে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে যে কোনও সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে—শুক্রবার এমনই স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার।
এই নির্দেশকে ঘিরে বাংলাদেশে রাজনৈতিক মহল ও সংবাদমাধ্যমের মধ্যে শুরু হয়েছে প্রবল আলোড়ন। কারণ, এটি শুধু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বক্তব্য নিয়ন্ত্রণ নয়, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস উইং এক বিবৃতিতে জানিয়েছে—
-
শেখ হাসিনা অভিযুক্ত ‘ফৌজদারি অপরাধী’, ‘গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত’ এবং ‘নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ’-এর নেত্রী।
-
তাঁর বক্তব্য বা অডিয়ো-ভিডিও কোনও সংবাদমাধ্যমে প্রচার হলে তা ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।
-
বাংলাদেশের টেলিভিশন, সংবাদপত্র ও অনলাইন পোর্টাল এই নিয়ম ভঙ্গ করলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়াও সরকার মনে করিয়ে দিয়েছে, গত বছরের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ঘৃণা ও সহিংসতা ছড়ায় এমন বক্তব্য প্রচার নিষিদ্ধ করেছিল। সেই নির্দেশকেই এবার শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার হাসিনার একটি বক্তৃতা বাংলাদেশের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম প্রচার করে। তার পরদিনই ইউনূস সরকার কঠোর বার্তা দেয়। সরকার জানায়, এর পুনরাবৃত্তি হলে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমকে দায় নিতে হবে।
গত বছরের ৫ অগস্ট ঢাকায় গণবিক্ষোভ ও প্রাণহানির ঘটনার জেরে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন শেখ হাসিনা। এরপর তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করছেন তিনি।
যদিও দেশছাড়া হয়েও তিনি সমাজমাধ্যমের মাধ্যমে নিয়মিত বক্তব্য রাখছেন। সেসব বার্তায় ইউনূস সরকারের নানা নীতি ও পদক্ষেপকে ‘জনবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে আসছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অনুগামীদের উদ্দেশে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বানও জানাচ্ছেন তিনি।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ইতিমধ্যেই ইউনূস সরকারের হাতে ‘নিষিদ্ধ সংগঠন’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এবার দলের নেত্রীর বক্তব্য প্রকাশের ওপরও নিষেধাজ্ঞা চাপানো হল। আওয়ামী লীগের তরফে দাবি উঠেছে—এটি আসলে ‘কণ্ঠরোধের ষড়যন্ত্র’।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা ও তাঁর অনুগামীদের সংখ্যা এখনও প্রবল। তাই তাঁকে পুরোপুরি নীরব করতে চায় বর্তমান সরকার। কিন্তু সংবাদমাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের নীতি-নৈতিকতার ওপর নতুন প্রশ্ন তুলল।
বাংলাদেশে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হলেও, তাঁকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিরতা থামছে না। এবার তাঁর কণ্ঠস্বরকেও নীরব করার চেষ্টা শুরু করল ইউনূস সরকার। এই সিদ্ধান্ত কেবল রাজনৈতিক বিতর্কই নয়, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়েও এক নতুন সংকট তৈরি করেছে।




