কলকাতা টাইমস নিউজ : ডেস্ক :২৩ অগস্ট:
ডোনাল্ড ট্রাম্পের আস্থাভাজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবার দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূতও
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং হোয়াইট হাউসের পার্সোনেল ডিরেক্টর সের্জিও গর-কে ভারতের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ করলেন। একইসঙ্গে তাঁকে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূতের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা করে ট্রাম্প লিখেছেন, “আমি আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি, সের্জিও গর হচ্ছেন আমাদের নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ভারতের জন্য এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার বিশেষ দূত। সের্জিও বহু বছর ধরে আমার পাশে থেকেছে। সে আমার প্রচারাভিযানে কাজ করেছে, আমার বই প্রকাশ করেছে এবং আমাদের আন্দোলনকে সমর্থন করে এমন অন্যতম বৃহত্তম সুপার পিএসি পরিচালনা করেছে। আমি বিশ্বাস করি, ভারতের মতো গুরুত্বপূর্ণ দেশের জন্য সের্জিও অসাধারণ রাষ্ট্রদূত হবে।”
ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, গর এবং তাঁর দল অভূতপূর্ব গতিতে আমেরিকার বিভিন্ন দফতরে প্রায় ৪ হাজার কর্মকর্তা নিয়োগ করেছেন। “আমাদের দফতর ও এজেন্সির ৯৫ শতাংশের বেশি পূর্ণ করা হয়েছে রেকর্ড সময়ে,” দাবি করেন প্রেসিডেন্ট।
সের্জিও গর মূলত ট্রাম্প পরিবারের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ। তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের সঙ্গে মিলে উইনিং টিম পাবলিশিং প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ওই সংস্থা থেকেই ট্রাম্পের দুটি বই প্রকাশিত হয়েছে। ট্রাম্পপন্থী বৃহত্তম সুপার পিএসি পরিচালনার দায়িত্বও ছিল তাঁর হাতে। হোয়াইট হাউসের পার্সোনেল ডিরেক্টর হিসেবে তিনি মন্ত্রক ও সরকারি দফতরের শীর্ষকর্তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া তত্ত্বাবধান করেছেন। সম্প্রতি নাসার নেতৃত্বে টেক-বিলিয়নেয়ার জ্যারেড আইজ্যাকম্যানের প্রস্তাবিত নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও তাঁর ভূমিকা ছিল, যদিও পরে তা বাতিল হয়।
নিয়োগ ঘোষণার পর গর সোশ্যাল মিডিয়া এক্স-এ লিখেছেন, “আমার কর্মজীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান এটি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের সেবা করার থেকে গর্বের আর কিছু নেই। এখন সেই সুযোগ পাচ্ছি ভারতের মতো বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ দেশে আমাদের প্রতিনিধিত্ব করার।” তিনি ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “আপনার বিশ্বাস ও আস্থার জন্য ধন্যবাদ। এটি আমার জীবনের মাইলফলক।”
ভারতের সঙ্গে মার্কিন সম্পর্ক বিগত এক দশকে কৌশলগত দিক থেকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বাণিজ্য—সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগ আমেরিকার পক্ষে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ট্রাম্প প্রশাসন চাইছে দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের কূটনৈতিক প্রভাব আরও মজবুত করতে, আর সেখানেই গরের ভূমিকা হবে মূল চাবিকাঠি।
ভারতে সর্বশেষ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ছিলেন এরিক গারসেটি, যিনি ২০২৩ সালের ১১ মে দায়িত্ব গ্রহণ করে ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত কাজ করেন। তাঁর আগে ২০১৭ থেকে ২০২১ পর্যন্ত এই পদে ছিলেন কেনেথ জাস্টার। গারসেটির পদত্যাগের পর থেকে ভারপ্রাপ্ত চাজ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিসেবে জানুয়ারি ২০২৫ থেকে মার্কিন দূতাবাসে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন জর্গান কে. অ্যান্ড্রুজ।
ভারত ও আমেরিকার মধ্যে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত সহযোগিতা যেমন গরের সামনে সুযোগ তৈরি করবে, তেমনি বাণিজ্যিক টানাপড়েন, ভিসা সমস্যা এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি (বিশেষত চীন ও পাকিস্তান প্রসঙ্গ) সামলানোও হবে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হওয়ার কারণে গরের উপর হোয়াইট হাউসের আস্থা থাকলেও তাঁকে আন্তর্জাতিক কূটনীতির কঠিন পরীক্ষায় সফল হতে হবে।




