কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা :নয়া দিল্লি,২৩ অগস্ট:
সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জের মুখে কেন্দ্রের ই-২০ পেট্রোল নীতি !
ভোক্তার অধিকার ও যানবাহনের সুরক্ষা প্রশ্নে জনস্বার্থ মামলা
কেন্দ্রের ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল (E-20) চালুর নীতির বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হয়েছে এক জনস্বার্থ মামলা (PIL)। আইনজীবী অক্ষয় মালহোত্রা এই মামলায় অভিযোগ করেছেন, ভোক্তার অধিকার উপেক্ষা করে এবং কোটি কোটি গাড়িচালককে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়ে সরকার তড়িঘড়ি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মালহোত্রার দাবি, দেশের বাজারে বর্তমানে যে পেট্রোল পাওয়া যাচ্ছে তার মধ্যে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানো হচ্ছে। অথচ ভোক্তাদের জন্য ইথানল-মুক্ত পেট্রোল (E0) আর রাখা হচ্ছে না। এর ফলে—
-
পুরনো গাড়ি ও বাইকের ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে,
-
মাইলেজ কমে যাচ্ছে,
-
রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বাড়ছে,
-
এমনকি অনেক ক্ষেত্রেই বিমা দাবি বাতিল হচ্ছে।
পাশাপাশি, পাম্পে কোথাও স্পষ্ট করে উল্লেখও করা হচ্ছে না যে বিক্রি হওয়া পেট্রোলটি আসলে E-20। ভোক্তা সুরক্ষা আইন, ২০১৯ অনুযায়ী এটি ভোক্তার ‘informed choice’ বা সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারের পরিপন্থী বলেই আবেদনকারীর যুক্তি।
প্রযুক্তিগত অসঙ্গতি
মামলায় আরও বলা হয়েছে –
-
এপ্রিল ২০২৩-এর আগে তৈরি অধিকাংশ গাড়িই E-20 সহনীয় নয়।
-
এমনকি গত দুই বছরের মধ্যেও যে BS-VI মানের গাড়ি তৈরি হয়েছে, তারাও পুরোপুরি E-20-এর উপযোগী নয়; সর্বোচ্চ E-10 পর্যন্ত ব্যবহারযোগ্য।
-
ইথানল ইঞ্জিনের বিভিন্ন অংশে ক্ষয় (corrosion) ঘটায়।
-
রাবার, প্লাস্টিক, ফুয়েল লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
-
ইঞ্জিন দ্রুত নষ্ট হয় এবং দূষণও বাড়ে, কারণ জ্বালানি দক্ষতা (fuel efficiency) কমে যায়।
আবেদনকারী আরও প্রশ্ন তুলেছেন, যখন পেট্রোলের ২০ শতাংশ অংশে ইথানল মেশানো হচ্ছে, তখন ভোক্তাদের দাম কেন কমানো হচ্ছে না? সংস্থাগুলি খরচ কমালেও সেই সুবিধা শেষ পর্যন্ত গ্রাহকের কাছে পৌঁছচ্ছে না।
পিআইএলে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউরোপ ও আমেরিকায় ইথানল-মিশ্রিত পেট্রোল থাকলেও ভোক্তার জন্য ইথানল-মুক্ত পেট্রোল (E0) রাখার সুযোগ থাকে। পাশাপাশি প্রতিটি পাম্পে পরিষ্কারভাবে লেখা থাকে কোন ফুয়েল কত শতাংশ ইথানল মিশ্রিত।
কিন্তু ভারতে ভোক্তাদের এ বিষয়ে প্রায় কিছুই জানানো হচ্ছে না। সাধারণ গাড়িচালকরা অজান্তেই এমন জ্বালানি ব্যবহার করছেন যা তাদের যানবাহনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
আদালতে আবেদন
এই প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানানো হয়েছে—
-
বাজারে ইথানল-মুক্ত পেট্রোল (E0) চালু রাখতে হবে।
-
প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে স্পষ্ট লেবেল দিতে হবে কোন জ্বালানি E-20 এবং কোনটি নয়।
-
জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে।




