কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা : নয়াদিল্লি,২৪ অগস্ট:
আমেরিকার সঙ্গে পার্সেল ডাক পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। শনিবার ভারতীয় ডাক বিভাগ এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায়, নতুন শুল্ক নীতি কার্যকর হওয়ার কারণে আমেরিকায় আপাতত পার্সেল পাঠানো সম্ভব হবে না। তবে চিঠিপত্র, নথিপত্র এবং ১০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের গিফট আইটেম এই পরিষেবার বাইরে রাখা হয়েছে।
সূত্রের খবর, এত দিন পর্যন্ত ৮০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের পার্সেল আমেরিকায় পাঠাতে শুল্ক বা ডিউটি দিতে হতো না। কিন্তু গত ৩০ জুলাই আমেরিকার পক্ষ থেকে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। তাতে জানানো হয়, আগামী ২৯ অগস্ট থেকে যে কোনও মূল্যের পার্সেল আমেরিকায় পাঠাতে শুল্ক দিতে হবে। এই শুল্ক ধার্য করা হবে International Emergency Economic Power Act-এর কাঠামো অনুযায়ী। একমাত্র ছাড় দেওয়া হবে ১০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত গিফট আইটেমের ক্ষেত্রে।
আমেরিকার নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক যে সব ক্যারিয়ার বা আমেরিকার অনুমোদিত সংস্থার মাধ্যমে বিদেশে পার্সেল পাঠানো হয়, তারাই এই শুল্ক আরোপ ও আদায়ের দায়িত্ব নেবে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ভারতীয় ক্যারিয়ার সংস্থাগুলিকে সেই অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এর জেরে বিমান সংস্থাগুলি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা ২৫ অগস্টের পরে আমেরিকাগামী কোনও পার্সেল বহন করতে পারবে না। ফলে ভারতীয় ডাক বিভাগ বাধ্য হয়েই পার্সেল পরিষেবা স্থগিত রাখার ঘোষণা করেছে।
সম্প্রতি আমেরিকা ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেছে। বণিক মহল মনে করছে, এই পদক্ষেপে ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্যে বড় ধাক্কা আসবে। এর মাঝেই পার্সেল ডাক পরিষেবা বন্ধ হওয়ায় আমেরিকায় ব্যবসা ও ব্যক্তিগত লেনদেন উভয় ক্ষেত্রেই সমস্যার সৃষ্টি হবে।
এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর শনিবার দিল্লির এক অনুষ্ঠানে বলেন,
“সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভারত এখন বুঝে গেছে যে কোনও একটি নির্দিষ্ট দেশ বা বাজারের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বৈচিত্র আনতে হবে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুল্ক নীতি নিয়ে ভারত ও আমেরিকার চলমান টানাপড়েনের মধ্যেই ডাক পরিষেবা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনায় এর প্রতিফলন পড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।




