কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা : ওয়াশিংটন ,২৪ অগস্ট:
রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে ফের সক্রিয় হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কিকে আলোচনার টেবিলে বসাতে বদ্ধপরিকর হোয়াইট হাউসের নতুন কর্তা। তবে আলোচনার সুযোগ সীমিত বলেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর স্পষ্ট বার্তা— আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে ইতিবাচক অগ্রগতি না-দেখলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে।
গত সপ্তাহে আলাস্কায় পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ট্রাম্প। আর চলতি সপ্তাহের শুরুতেই ওয়াশিংটনে জ়েলেনস্কির সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকে বসেন তিনি। ওই সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারাও হোয়াইট হাউসে উপস্থিত ছিলেন। সূত্রের খবর, দুই রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে আলাদা আলোচনা করার পর ট্রাম্প এখন চাইছেন পুতিন–জ়েলেনস্কিকে সরাসরি মুখোমুখি বসাতে। এমনকি এর পরবর্তী ধাপে একটি ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিতও পাওয়া গিয়েছে। যদিও বৈঠকের দিনক্ষণ এখনও নির্ধারিত হয়নি।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিক বৈঠকে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, ‘‘আমরা দেখব রাশিয়া ও ইউক্রেন বৈঠকে বসছে কি না। যদি না-বসে, কেন বসছে না সেটিও খতিয়ে দেখা হবে। কারণ আমি ইতিমধ্যেই তাদের আলোচনায় বসতে বলেছি। আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। হয় রাশিয়ার উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক কিংবা উভয়ই চাপানো হতে পারে। অথবা আমরা কিছুই করব না এবং বলব এটি মূলত আপনাদের যুদ্ধ।’’
ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল। কারণ, গত সপ্তাহ থেকেই কূটনৈতিক অঙ্কে নয়া সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে। আলাস্কায় পুতিনের সঙ্গে বৈঠক এবং পরে জ়েলেনস্কির সঙ্গে আলাদা বৈঠকের পর জানা যায়, দুই দেশই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসতে আগ্রহী। এর পর ট্রাম্পের উপস্থিতিতে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
দ্বিতীয় বার হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর থেকেই ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে জোর দিচ্ছেন ট্রাম্প। ইউক্রেনের উপর রাশিয়ার হামলা বন্ধ না-হলে নিষেধাজ্ঞার পথে হাঁটবেন— এমন হুঁশিয়ারি তিনি আগেও দিয়েছেন। তবে এ বার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া ট্রাম্পের কূটনৈতিক কৌশলকে আরও চাপ তৈরি করার ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছে ওয়াশিংটন মহল।
ফলে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে এখন সবার চোখ মস্কো ও কিয়েভের দিকে। আগামী দু’সপ্তাহেই বোঝা যাবে পুতিন–জ়েলেনস্কি আলোচনায় বসতে রাজি হন কি না, নাকি আমেরিকা সত্যিই রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার পথে হাঁটে।




