কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা : মুর্শিদাবাদ,২৪ অগস্ট:
মুর্শিদাবাদের ফরাক্কায় কর্তব্যরত এক ট্র্যাফিক পুলিশের এএসআইকে মারধরের অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন শাসক দলের জনপ্রতিনিধি। অভিযোগ, ফরাক্কা ব্লকের বেওয়া-১ পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তথা স্থানীয় তৃণমূল নেতা তারিকুল শেখ শনিবার দুপুরে নিউ ফরাক্কা বাসস্ট্যান্ড মোড়ের উপর কর্তব্যরত এএসআই তাপস ঘোষকে প্রকাশ্যে আক্রমণ করেন। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্য ফেলে দিয়েছে।
সূত্রের খবর, ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের উপরে নিউ ফরাক্কা বাসস্ট্যান্ড মোড়ে নিয়মিত যানজটের কারণে সেদিন পুলিশ ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত ছিল। অভিযোগ, সেই সময় ব্যক্তিগত গাড়ি দাঁড় করানোকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে তারিকুল শেখের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুহূর্তের মধ্যে গালিগালাজ ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়। অভিযোগ, এরপরেই ওই তৃণমূল নেতা এএসআই তাপস ঘোষকে ঘুষি ও লাথি মারেন।
ঘটনার পরেই অন্য পুলিশকর্মীরা এসে পরিস্থিতি সামাল দেন। আহত অবস্থায় এএসআইকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর ফরাক্কা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ অভিযুক্ত তৃণমূল উপপ্রধান তারিকুল শেখকে রাতেই গ্রেপ্তার করে।
এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক জলঘোলা শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, শাসক দলের নেতারা প্রশাসনের উপর নির্লজ্জ প্রভাব খাটাচ্ছেন। বিজেপি ও কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, শাসক দলের নেতারা আইনকানুনের তোয়াক্কা না করেই জনসমক্ষে পুলিশকর্মীদের মারধর করার সাহস পাচ্ছেন।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ অবশ্য ঘটনার গুরুত্ব স্বীকার করলেও দাবি করছে, বিষয়টিকে ‘অতিরঞ্জিত’ করা হচ্ছে। জেলা তৃণমূলের এক নেতা বলেন, “আইন আইনের পথেই চলবে। দলীয় পরিচয় দিয়ে কেউ অন্যায় করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীর উপর এ ধরনের হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রশ্ন উঠছে—যেখানে একজন পুলিশ অফিসার প্রকাশ্যে আক্রান্ত হতে পারেন, সেখানে সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ? বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রশাসনকে এ ধরনের ঘটনায় আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত যাতে ভবিষ্যতে কেউ আইন হাতে তুলে নেওয়ার সাহস না পায়।
ফরাক্কার ঘটনায় শাসক দলের ভাবমূর্তি যে ধাক্কা খেল, তা বলাই বাহুল্য। তবে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের বাইরে মূল প্রশ্ন একটাই—আইনের রক্ষককে প্রকাশ্যে আক্রমণ করার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কতটা কঠোর হবে প্রশাসন? তার উত্তরই এখন খুঁজছে মুর্শিদাবাদবাসী।




