কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা : কলকাতা,২৪ অগস্ট:
সোমবার থেকেই যাত্রী পরিষেবা শুরু করতে চলেছে নোয়াপাড়া-বিমানবন্দর মেট্রো রুট। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরে বিমানযাত্রীদের জন্য যেমন সুবিধা আসছে, তেমনই সাধারণ মেট্রো যাত্রীদের মনে তৈরি হচ্ছে কিছু নতুন প্রশ্নও। বিশেষ করে লাগেজ সংক্রান্ত নিয়ম নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। বিমানযাত্রীদের ভারী স্যুটকেস থেকে সাধারণ অফিসযাত্রীদের ছোট ব্যাগ— সবার ক্ষেত্রেই কী একই নিয়ম চলবে?
মেট্রোয় সাধারণত অফিসগামী বা দৈনন্দিন যাত্রীরা যাতায়াত করেন। তাঁদের ব্যাগপত্র সাধারণত হালকা। কিন্তু বিমান ধরতে যাওয়া যাত্রীরা থাকেন ভারী লাগেজ নিয়ে— কেবিন লাগেজের পাশাপাশি থাকে চেক-ইন স্যুটকেসও। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এই ভারী লাগেজ মেট্রোতে বহন করা যাবে কি না, আর বহন করা গেলেও এর জন্য কি আলাদা চার্জ ধার্য হবে?
মেট্রো সূত্রে খবর, নতুন রুটের ট্রেনে আট রেকের কোচ থাকলেও লাগেজ রাখার জন্য আলাদা ব্যবস্থা আপাতত করা হচ্ছে না। লাগেজের জন্য কোনও অতিরিক্ত ভাড়া ধার্যের কথাও ভাবছে না মেট্রো রেল। কলকাতা মেট্রোর এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “যাত্রীদের যাতায়াতে যেন সমস্যা না হয়, সেটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। লাগেজের জন্য আলাদা কোনও ভাড়া বা নতুন নিয়ম আপাতত চালু করা হচ্ছে না।”
কলকাতা মেট্রোর বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, যাত্রীরা ১০ কেজির বেশি ওজনের জিনিস বহন করতে পারেন না। একই সঙ্গে দাহ্য, বিস্ফোরক বা বিপজ্জনক কোনও বস্তু বহনের অনুমতিও নেই। অর্থাৎ বিমানযাত্রীদের ভারী স্যুটকেস বা ১৫ কেজির চেক-ইন লাগেজ আনতে গেলে নিয়মতই জটিলতা তৈরি হতে পারে।
ভারতের বেশিরভাগ ডোমেস্টিক ফ্লাইটে যাত্রীদের ১৫ কেজি পর্যন্ত চেক-ইন লাগেজ এবং ৭ কেজি পর্যন্ত কেবিন লাগেজ বহনের অনুমতি দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে বিমানযাত্রীদের ব্যাগের ওজন মেট্রো নিয়মের সঙ্গে খাপ খায় না। ফলে বড় ব্যাগ নিয়ে যাত্রীদের চাপ পড়তে পারে ভিড়ের সময়।
অনেকের মনে প্রশ্ন, যদি নিয়ম মেনে ১০ কেজির বেশি ওজন বহন করা না যায়, তবে বিমানযাত্রীরা কীভাবে মেট্রো ব্যবহার করবেন? সেই ক্ষেত্রে কি ভারী লাগেজ নিয়ে যাত্রীদের অন্য পরিবহণ বেছে নিতে হবে? নাকি ভবিষ্যতে বিমানবন্দর রুটের জন্য আলাদা লাগেজ নীতি আনা হবে? এ ব্যাপারে এখনই স্পষ্ট কিছু জানায়নি মেট্রো রেল।
সূত্রের খবর, আপাতত বিদ্যমান নিয়মই চালু থাকবে। তবে যাত্রী সংখ্যা ও পরিস্থিতি বিচার করে ভবিষ্যতে লাগেজ নীতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, বিমানবন্দরগামী রুটের কথা মাথায় রেখে লাগেজ নীতি শিথিল করার কথা ভাবতেই হবে কর্তৃপক্ষকে।




