কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা : বালিয়া,২৪ অগস্ট:
উত্তরপ্রদেশের বালিয়ায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় সরকারি অফিসে প্রকাশ্যে এক দলিত ইঞ্জিনিয়ারকে জুতো দিয়ে মারধর করার অভিযোগ উঠল বিজেপি কর্মীর বিরুদ্ধে। ঘটনায় প্রকাশ, বিদ্যুৎ দপ্তরের সুপারিটেন্ডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার (SE) লাল সিং-কে এক বিজেপি কর্মী এবং তার অনুগামীরা অফিসের মধ্যে ঢুকে বেধড়ক মারধর করেন। ঘটনাটি শনিবার ঘটে এবং মুহূর্তের মধ্যে তার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বালিয়ার একাধিক গ্রামে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়া নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছিল। শনিবার দুপুরে সেই অভিযোগ জানাতে সদলবলে বিদ্যুৎ দপ্তরে হাজির হন বিজেপি কর্মী মুন্না বাহাদুর। অভিযোগ, অফিসে ঢুকেই তিনি ইঞ্জিনিয়ার লাল সিং-এর দিকে তেড়ে যান। এরপর গালিগালাজ শুরু করে মুহূর্তের মধ্যে জুতো খুলে মাথায় এবং শরীরে আঘাত করতে থাকেন।
লাল সিংয়ের অভিযোগ, “আমি বারবার জিজ্ঞাসা করছিলাম আমার দোষটা কী? কিন্তু কোনও উত্তর না দিয়ে আমাকে মারধর করতে থাকে তারা। অফিসের কাগজপত্রও নষ্ট করেছে।”
অন্যদিকে, অভিযুক্ত বিজেপি কর্মী মুন্না বাহাদুর অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি ও তাঁর অনুগামীরা কেবল গ্রামবাসীর সমস্যা জানাতে গিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, “ভদ্রভাবেই কথা বলছিলাম। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ার লাল সিং-ই প্রথমে আমাদের অপমান করেন ও গালিগালাজ করতে থাকেন। এমনকি ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমাদের দিকে তেড়ে আসেন।”
এই ঘটনার পর ইঞ্জিনিয়ার লাল সিং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে বিজেপি কর্মী মুন্না বাহাদুরের বিরুদ্ধে FIR নথিভুক্ত করেছে পুলিশ। তবে এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে, মুন্না বাহাদুরও পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছেন ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে।
ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে উত্তরপ্রদেশ বিদ্যুৎ পরিষদ। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকারি দপ্তরে প্রকাশ্যে একজন ইঞ্জিনিয়ারকে জুতো দিয়ে মারধর করার ঘটনা অভূতপূর্ব। তারা অবিলম্বে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করার দাবি জানিয়েছে।
এই ঘটনার জেরে সরকারি অফিসের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ জানাতে গিয়ে যদি এমন ঘটনা ঘটে, তবে সরকারি কর্মীরা নিরাপদ থাকবেন কীভাবে?
প্রসঙ্গত, এর আগে ভুবনেশ্বর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের এক আধিকারিককে অফিস থেকে টেনে নিয়ে গিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছিল একদল যুবকের বিরুদ্ধে। তাঁকে জোর করে গাড়িতে তোলার চেষ্টাও করা হয়েছিল। বালিয়ার এই ঘটনায় ফের একবার সরকারি কর্মচারীদের সুরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।




