কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা ,২৫ অগস্ট:
নিউ গড়িয়ার চাঞ্চল্যকর খুনকাণ্ড শহরজুড়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সদ্যনিযুক্ত আয়া আশালতা সর্দার এবং তাঁর সঙ্গী মহম্মদ জালাল মীরকে গ্রেফতার করার পরই লালবাজার কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে। পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের দাবি, এবার থেকে শুধু ভাড়াটে নন, আয়া, পরিচারক ও গাড়ির চালকদেরও তথ্য বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হবে। প্রতিটি থানায় পাঠানো হচ্ছে বিশেষ ফর্ম।
কয়েক দিন আগেই নিউ গড়িয়ায় এক বৃদ্ধাকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। অভিযোগ, সদ্য কাজ শুরু করা আয়া আশালতা সর্দার বৃদ্ধা এবং তাঁর স্বামীকে আক্রমণ করেন। গয়না ও নগদ টাকা লুঠ করার পর বৃদ্ধাকে খুন করে, হাত-পা বেঁধে রেখে যান তিনি। তাঁর সঙ্গী জালাল মীরকে তখন বাড়ির বাইরে পাহারায় দাঁড় করানো হয়েছিল। পরে দু’জনের কাছ থেকেই গয়না-টাকা উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তে প্রকাশ, ওই আয়াকে স্থানীয় আয়া সেন্টার থেকে নিয়োগ করা হয়েছিল।
ঘটনার পরই কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা জরুরি বৈঠক করেন লালবাজারে। তিনি বলেন,
“আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করেছি। কীভাবে সাধারণ মানুষ তাঁদের বাড়ির আয়া, পরিচারক বা ভাড়াটের তথ্য পুলিশের সঙ্গে ভাগ করবেন এবং কীভাবে পুলিশ সময়মতো তা যাচাই করবে, তার রূপরেখা তৈরি হচ্ছে।”
শনিবার কমিশনার জানিয়ে দিয়েছেন, খুব শিগগিরই নাগরিকদের জন্য নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে।
নতুন ফর্মে কী থাকছে?
লালবাজার সূত্রে খবর, বিশেষ যে ফর্মটি থানাগুলিতে পাঠানো হচ্ছে, তাতে বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে হবে—
-
নাম, ঠিকানা ও পরিচয়পত্র নম্বর
-
ফোন নম্বর ও জরুরি যোগাযোগ
-
নিয়োগকারী বা ভাড়াটে হওয়ার সময়কাল
-
সংশ্লিষ্ট থানার নাম
এই ফর্মে আয়া, পরিচারক, গাড়িচালক ছাড়াও প্রতিটি ভাড়াটের তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা থাকবে। বিশেষ করে যাঁরা একা থাকেন, তাঁদের জন্য এই ফর্ম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
এমনিতেই বহু দিন ধরে কলকাতার থানাগুলিতে পরিচারক–পরিচারিকার তথ্য জমা দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। তবে নিউ গড়িয়া-কাণ্ডের পর আয়াদের আলাদা করে নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে। কারণ, শহরে একা থাকা প্রবীণ নাগরিকদের নিরাপত্তা সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পুলিশের তথ্য বলছে, দেশে প্রায় ৩০ শতাংশ প্রবীণই বাড়িতে একা থাকেন। কলকাতা পুলিশের ওয়েবসাইটে তাঁদের জন্য ‘প্রণাম’ নামের বিশেষ প্রকল্প চালু আছে, যেখানে নাম, ফোন নম্বর, জন্মতারিখ, থানার নাম আপলোড করার ব্যবস্থা রয়েছে। এবার সেই ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হতে পারে।
পুলিশের বক্তব্য, প্রশাসনের পদক্ষেপ যথেষ্ট হলেও নাগরিকদের সচেতন হওয়াও সমান জরুরি। বাড়িতে কাজের লোক বা আয়া রাখার আগে তাঁদের পরিচয় যাচাই করা, পরিচিত কারও রেফারেন্স নেওয়া এবং তথ্য থানায় জমা দেওয়া প্রতিটি পরিবারের দায়িত্ব হওয়া উচিত।
এক কথায়, নিউ গড়িয়ার ঘটনার পর কলকাতা পুলিশ শুধু অপরাধীদের গ্রেফতার করেই থেমে থাকছে না, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অপরাধ আর না ঘটে তার জন্য কাঠামোগত পদক্ষেপের পথে হাঁটছে।




