কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা ,২৫ অগস্ট:
আয়া আশালতা একাই কি মূলচক্রী ? নেপথ্যে আরও কেউ আছে কি না খতিয়ে দেখছে পুলিশ !
নিউ গড়িয়ার কলু ভিলা এলাকায় চাঞ্চল্যকর লুট–খুন কাণ্ডে পুলিশ এখনো সংশয় কাটাতে পারছে না। খুন ও লুটের মূল পরিকল্পনাকারী কি সত্যিই কেবলমাত্র আয়া আশালতা সর্দারই? নাকি তাঁর পেছনে আরও কেউ রয়েছে, যাঁরা আগে থেকেই ওই আবাসনের একাকী বয়স্কদের ‘টার্গেট’ করেছিল?
সন্দেহের কেন্দ্রে আয়া আশালতা
তদন্তে জানা গিয়েছে, ৩৬ বছরের আয়া আশালতা সর্দারকে নিয়োগ করা হয়েছিল গত ১৭ অগস্ট। নিউ গড়িয়ার একটি আয়া সেন্টারের মাধ্যমে তিনি কাজ শুরু করেন বিজয়া দাসের (৬৭) বাড়িতে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে একদিন কাজ করার পর আর যাননি তিনি। অথচ, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় ১৮ ও ১৯ অগস্ট আশালতা ওই আবাসনের ভিতরে ঘোরাফেরা করছে, সঙ্গে ছিল এক ব্যক্তি। পরে জানা যায়, সে হল মহম্মদ জালাল মীর।
পুলিশের সন্দেহ, এত দ্রুত ওই পরিবারের রুটিন, পরিচারিকার আসা–যাওয়া, সন্তানরা বাইরে থাকেন – এই তথ্য কীভাবে আশালতার কাছে পৌঁছল? এত কম সময়ে সব জানা সম্ভব কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে তদন্তকারীদের সামনে।
তদন্তকারীরা মনে করছেন, সিসিটিভির তার কেটে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মতো কাজ আশালতা এবং জালালের পক্ষে সহজ নয়। তা হলে কি তাদেরকে কেউ নির্দেশ দিয়েছিল? কিংবা এর আগেও আশালতা অন্য কোনও দুষ্কৃতীচক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার সকালে লুটপাট করে বৃদ্ধা বিজয়া দাসকে খুন করে অভিযুক্তরা। ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কলু ভিলা চত্বরের প্রায় ৫০-৬০টি বাড়িতে অধিকাংশ সময় বয়স্করা একাই থাকেন। তাঁদের ছেলে-মেয়েরা কর্মসূত্রে বিদেশে বা ভিন রাজ্যে। সেই সুযোগ নিয়েই দুষ্কৃতীরা টার্গেট বানাচ্ছে কি না, তা নিয়েও তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
কলকাতা পুলিশের সিপি মনোজ ভার্মা জানিয়েছেন – “এখন থেকে কারা ভাড়া থাকছেন, কোথা থেকে আসছেন – তা রিভিউ করা হবে। বাড়িওয়ালাদের এই তথ্য থানায় জানাতে বলা হয়েছে।”
এছাড়া একাকী বয়স্কদের কলকাতা পুলিশের ‘প্রণাম’ প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার জন্য বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হচ্ছে। প্রণামের সদস্য হলে নিয়মিত পুলিশ খোঁজ নেয়, প্রয়োজনে চিকিৎসা ও নিরাপত্তা সহায়তাও দেয়।
আবাসন কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক অম্বিকেশ মহাপাত্র জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই একটি ‘বয়স্ক সাপোর্ট টিম’ গঠন করা হয়েছে, যাতে চিকিৎসা সহায়তা পাওয়া যায়। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জোরালো হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা চাই পুলিশের সঙ্গে মিলেই এই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে মজবুত করতে। একইসঙ্গে বয়স্কদের প্রণামে যুক্ত করার দিকেও আমরা জোর দিচ্ছি।”
আশালতা এবং জালাল মীর বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা হচ্ছে, এর পেছনে আরও কোনও চক্র জড়িত আছে কি না। তবে ধৃতরা এখনও বিশেষ সহযোগিতা করছে না বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
এই কাণ্ডে শুধু একটি পরিবারের নয়, গোটা আবাসন ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বয়স্ক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, আবাসন কমিটি এবং স্থানীয়দের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।




