কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা :নিউ দিল্লি ,২৫ অগস্ট:
রাজ্য-রাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতির অন্দরে এখন জোর চর্চা— বিজেপির নতুন সভাপতি কে হচ্ছেন? বর্তমান সভাপতি জে.পি. নাড্ডার মেয়াদ শীঘ্রই শেষ হতে চলেছে। আর সেই প্রেক্ষিতেই আসন্ন যোধপুর বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা।
আগামী ৫ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর রাজস্থানের যোধপুরে তিনদিনের এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বসছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই বৈঠকেই নতুন বিজেপি সভাপতির নাম নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন RSS প্রধান মোহন ভাগবত, সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবালে-সহ সংঘের জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা। এ ছাড়া RSS-এর ৩২টি শাখা সংগঠনের প্রতিনিধিরাও যোগ দেবেন।
এই প্রতিনিধিদের মধ্যে রয়েছেন বিজেপি, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP), ভারতীয় মজদুর সংঘ, ভারতীয় কিষাণ সংঘ এবং স্বদেশী জাগরণ মঞ্চের নেতারা। ফলে বৈঠকটি শুধুমাত্র একটি সাংগঠনিক বৈঠক নয়, বরং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
বিজেপির দিক থেকেও এই বৈঠকে যোগ দিতে পারেন দলের বর্তমান সভাপতি জে.পি. নাড্ডা, সাংগঠনিক প্রধান বি.এল. সন্তোষ, শিবপ্রকাশ, সুনীল বনসল-সহ শীর্ষ নেতারা। সূত্রের খবর, বৈঠকে শুধু সভাপতির পরিবর্তন নয়, দলীয় সাংগঠনিক কাঠামো ও কর্মপদ্ধতি নিয়েও বিশদ আলোচনা হবে।
রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই নানা নাম ঘুরপাক খাচ্ছে। বিজেপির তরুণ মুখ থেকে শুরু করে অভিজ্ঞ সাংগঠনিক নেতাদের নাম আলোচনায়। যদিও এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই ঘোষণা হয়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, RSS যে নামেই সম্মতি দেবে, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সেটিই মেনে নেবে।
বৈঠকে নতুন সভাপতির নাম ছাড়াও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গিয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে—
-
গত এক বছরে প্রতিটি শাখা সংগঠনের কাজের রিপোর্ট পেশ
-
আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য শুল্ক সম্পর্কিত বিষয়
-
আসন্ন RSS শতবর্ষ উদ্যাপনের প্রস্তুতি
এর আগে বৈঠকের প্রাক্কালে ২৬ থেকে ২৮ অগস্ট দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে থাকবেন সংঘ প্রধান মোহন ভাগবত। সেখান থেকেই চূড়ান্ত প্রস্তুতির রূপরেখা ঠিক হবে।
যোধপুর বৈঠককে ঘিরে বিজেপি এবং RSS উভয়ের মধ্যেই বাড়ছে রাজনৈতিক কৌতূহল। নতুন সভাপতি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত শুধু দলের সংগঠনেই প্রভাব ফেলবে না, বরং ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির কৌশল কতটা পরিবর্তিত হবে, তাও অনেকাংশে নির্ভর করবে এই সিদ্ধান্তের উপর।
সব মিলিয়ে, RSS-এর এই বৈঠক শুধু সাংগঠনিক নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও মোক্ষম বার্তা বহন করতে চলেছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।




