কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা ,২৫ অগস্ট:
দিলীপ ঘোষ বা লকেট চট্টোপাধ্যায় নন, বাংলার আরও একাধিক বিজেপি সাংসদ–নেতানেত্রী গত শুক্রবার দমদমের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ সরাসরি শোনার সুযোগ পাননি। কেউ ছিলেন ঘরে টেলিভিশনের সামনে, কেউ আবার ঘনিষ্ঠ মহলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কারণ, তাঁদের কাছে সভার আমন্ত্রণপত্র পৌঁছয়নি। এই তালিকায় আছেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ, রানাঘাটের সাংসদ জগন্নাথ সরকার-সহ একাধিক হেভিওয়েট নেতা। আর তাতেই বিজেপির অন্দরে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা—কোনও অদৃশ্য হাত কি পরিকল্পিতভাবে কিছু নামকে তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে?
সূত্রের খবর, সভার দিন অনুপস্থিত থাকায় রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য নিজে ফোন করেন লকেট চট্টোপাধ্যায়কে। জানতে চান, কেন তিনি দমদমের সভায় যাননি। লকেটের সোজা উত্তর—তাঁকে ডাকা হয়নি। শুধু লকেট নন, আরও কয়েকজন নেতানেত্রী জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে কোনও আমন্ত্রণ যায়নি। আশ্চর্যের বিষয়, তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে আবার দিল্লি থেকে ফোন করে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে কেন তাঁরা সভায় অনুপস্থিত ছিলেন। তখনও একই উত্তর মেলে—আমন্ত্রণই ছিল না।
এই অবস্থায় বিজেপির একাংশের অভিযোগ, বিষয়টি নিছক ‘অব্যবস্থা’ নয়। পরিকল্পিতভাবেই কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে বাদ রাখা হয়েছে। দলের এক বর্ষীয়ান নেতা ক্ষোভের সুরে বলেন, “বাংলায় আমাদের সাংসদের সংখ্যা হাতে গোনা। তাঁদের সবার কাছে প্রধানমন্ত্রীর সভার নিমন্ত্রণ না যাওয়া সত্যিই অস্বাভাবিক। রাজ্য সভাপতি এ কাজ করতে পারেন না। নিশ্চয়ই এর পেছনে কারও গোপন ভূমিকা আছে। তদন্ত হওয়া উচিত।”
রাজনৈতিক মহল বলছে, শমীক ভট্টাচার্য বারবার ঐক্যবদ্ধ বিজেপির বার্তা দিতে চাইছেন। অথচ, এই ঘটনা দলের ভেতরে বিভাজনের সংকেত দিচ্ছে। নিচুতলার কর্মীদের কাছেও ভুল বার্তা পৌঁছতে পারে। যদিও প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিতে এখনও পিছপা হচ্ছেন নেতারা।
অন্যদিকে, দমদম সভার আয়োজকদের একাংশের ব্যাখ্যা আলাদা। তাঁদের মতে, মোদী-শাহ বাংলায় বারবার আসবেন, প্রায় প্রতি মাসেই সভা হবে। সেক্ষেত্রে প্রতিটি সভায় সব সাংসদ-নেতাকে হাজির রাখা সম্ভব নয়। তাই অঞ্চলভিত্তিক নিয়ম তৈরি হয়েছে—যে জ়োনে সভা, সেখানকার নেতৃত্ব মঞ্চে থাকবেন। যেহেতু দমদম এলাকায় বিজেপির কোনও সাংসদ নেই, তাই সাংগঠনিক নিয়ম মেনেই অনেককে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে সেই মঞ্চে দেখা গিয়েছে শুধু কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার ও শান্তনু ঠাকুরকে।
তবু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—কেন প্রভাবশালী সাংসদ-নেতারা একে একে বাদ পড়লেন? এটি নিছক সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত, না কি বিজেপির অন্দরে গোপন টানাপোড়েনের বহিঃপ্রকাশ—উত্তর খুঁজছে রাজনৈতিক মহল।




