কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা ,২৫ অগস্ট:
ভারতীয় রপ্তানিকারকদের উপর আসন্ন শুল্ক-বৃদ্ধির ধাক্কা সামলাতে মঙ্গলবার (২৬ অগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (PMO) বসছে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ২৭ অগস্ট থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে চলেছে।
সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিক, রপ্তানি উন্নয়ন কাউন্সিলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। বৈঠকে ভারতের তরফে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
শুল্কবৃদ্ধি কার্যকর হলে ভারতীয় পণ্যের দাম আমেরিকার বাজারে আরও বাড়বে। এতে রপ্তানিকারকরা ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা। তাই বণিকমহল চাইছে, দ্রুত বিকল্প পথ বের করে দিক কেন্দ্র। ইতিমধ্যেই জরুরি ক্রেডিট লাইন গ্যারান্টি স্কিম (Emergency Credit Line Guarantee Scheme) চালুর দাবি তুলেছেন রপ্তানিকারকরা, যাতে ক্ষতির মুখেও তাঁরা উৎপাদন ও বাণিজ্য চালিয়ে যেতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুল্ক বৃদ্ধির সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে টেক্সটাইল, গয়না, ইঞ্জিনিয়ারিং গুডস এবং কেমিক্যাল রপ্তানির ক্ষেত্রে। আমেরিকার বাজার ভারতীয় প্রস্তুতকারকদের জন্য সবথেকে বড় ভরসার জায়গা। ফলে শুল্ক-বৃদ্ধি হলে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রবল।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, রাশিয়ার থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রাখার কারণেই এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে আমেরিকা। কিন্তু ভারত সরকারের পাল্টা বক্তব্য, জাতীয় স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক বাজারদরের ভিত্তিতেই তেলের মতো কৌশলগত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় সরকার এই সিদ্ধান্তকে “অন্যায্য” বলে মন্তব্য করেছে।
বৈঠকে মূলত তিনটি দিক নিয়ে আলোচনা হবে বলে খবর—
১. আমেরিকার কাছে কূটনৈতিকভাবে শুল্ক কাঠামো পুনর্বিবেচনার আবেদন জানানো।
২. ভারতীয় পণ্যের জন্য নতুন আন্তর্জাতিক বাজার খোঁজার কৌশল তৈরি।
৩. দেশীয় রপ্তানিকারকদের আর্থিক সুরাহা দিতে বিশেষ স্কিম চালুর সম্ভাবনা।
আমেরিকা এখনও পর্যন্ত এই শুল্ক-বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেনি। ফলে ২৭ অগস্ট থেকে কার্যকর হলে ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্যে বড় প্রভাব পড়বে। ইতিমধ্যেই রপ্তানিকারক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তই ঠিক করবে ভারত শুল্ক-সংকটে কূটনৈতিক লড়াইয়ের পথে হাঁটবে নাকি অর্থনৈতিক কৌশল বদলে নতুন বাজার ধরতে ঝুঁকবে।
সব চোখ এখন মঙ্গলবারের বৈঠকের দিকে। এই বৈঠকেই নির্ধারিত হতে পারে ভারতের বাণিজ্যনীতির আগামী দিশা।




