spot_img
17 C
Kolkata
Tuesday, January 20, 2026
spot_img

আমেরিকার ‘শুল্ক-ঝড়’! ভারতের রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সিদ্ধান্ত !

কলকাতা টাইমস নিউজ  : নিজস্ব সংবাদদাতা :নয়াদিল্লি, ২৬  অগস্ট:

ভারতের উপর ফের নেমে আসছে আমেরিকার অর্থনৈতিক ‘বাণ’। আগামী ২৭ অগস্ট ভোর ১২টা ১ মিনিট (ইস্টার্ন স্ট্যান্ডার্ড টাইম) থেকে কার্যকর হতে চলেছে আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির নতুন নিয়ম। আমেরিকার হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দফতরের তরফে প্রকাশিত সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ভারতীয় পণ্যের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে মোট শুল্ক দাঁড়াবে ৫০ শতাংশে।

এই নির্দেশ কার্যকর হচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৬ অগস্টে স্বাক্ষরিত এক্সিকিউটিভ অর্ডার ১৪৩২৯ অনুসারে। ওই নির্দেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে— “রাশিয়ার সরকারের কার্যকলাপ মার্কিন স্বার্থের পরিপন্থী, তাই রাশিয়ার সহযোগী দেশগুলিকে অর্থনৈতিক চাপের মুখে ফেলাই হবে আমাদের প্রতিরোধ কৌশল।” সেই নীতির আওতাতেই ভারতের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ।

এই শুল্ক বৃদ্ধির ফলে ভারত থেকে আমেরিকায় রফতানি হওয়া চা, টেক্সটাইল, রাসায়নিক, ইঞ্জিনিয়ারিং গুডস সহ একাধিক শিল্পখাত বড়সড় চাপে পড়বে। বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে যুক্ত তালিকায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভারতীয় পণ্য রয়েছে। যেসব পণ্য ২৭ অগস্টের পর আমেরিকায় পৌঁছবে বা আমেরিকার গুদাম থেকে বাজারে ছাড়বে, তার উপরই নতুন শুল্ক আরোপিত হবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ— ভারত এখনও রাশিয়া থেকে তেল আমদানি চালিয়ে যাচ্ছে। মস্কোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক না কমানোয় মার্কিন অসন্তোষ বাড়ছিলই। এবার তা বাস্তব আকার নিল শুল্ক বৃদ্ধির মাধ্যমে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “যে কোনও দেশ যদি রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যায়, তার জন্য বড়সড় পরিণতি অপেক্ষা করছে।”

তবে প্রশ্ন উঠছে— চীনও রাশিয়ার অন্যতম বড় তেল ক্রেতা। কিন্তু কেন বেজিংকে এই শুল্কবৃদ্ধির আওতায় আনা হয়নি? এই দ্বৈতনীতির সমালোচনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।

নয়াদিল্লির তরফে একাধিক বার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত “অন্যায্য, অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য।” ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য— আন্তর্জাতিক বাজারদর এবং জাতীয় স্বার্থ মাথায় রেখেই জ্বালানি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সুতরাং আমেরিকার চাপিয়ে দেওয়া শর্ত মানা সম্ভব নয়।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সোমবার আহমেদাবাদে এক জনসভায় বলেন,
“যতই চাপ আসুক না কেন, ভারত নিজের শক্তি বাড়িয়ে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করবে। আত্মনির্ভর ভারতের যাত্রাপথে আমরা কোনওভাবেই থামব না।”

রফতানিকারক মহলের আশঙ্কা— নতুন শুল্ক কাঠামোর ফলে ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্যে বড়সড় ধাক্কা আসতে পারে। বহু শিল্পক্ষেত্রে রফতানি খরচ বেড়ে যাবে, ফলে প্রতিযোগিতার বাজারে ভারতের অবস্থান দুর্বল হতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর দফতরের (PMO) উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রপ্তানিকারক সংস্থাগুলির তরফে ইতিমধ্যেই ‘জরুরি ক্রেডিট লাইন গ্যারান্টি স্কিম’ চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেক্টরভিত্তিক করণীয় ও বিকল্প বাজার খোঁজার কৌশল নিয়েও সেখানে আলোচনা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

আসলে আমেরিকার এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই দেখছেন ভূ-রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে। ওয়াশিংটনের লক্ষ্য শুধু মস্কো নয়, তার মিত্র দেশগুলিকেও চাপে রাখা। তবে ভারতের মতো উদীয়মান অর্থনীতির উপর চাপ সৃষ্টি করে কতটা ফল পাওয়া যাবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

 ২৭ অগস্ট থেকে কার্যকর হতে চলা এই শুল্কবৃদ্ধি শুধু অর্থনৈতিক নয়, কূটনৈতিক সম্পর্কেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ভারত কি আমেরিকাকে কড়া জবাব দেবে, নাকি বিকল্প বাজারে ঝুঁকবে— তার উত্তর মিলবে আসন্ন বৈঠকেই।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,800SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks