কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা :ওয়াশিংটন, ২৬ অগস্ট :
শুল্কযুদ্ধের আবহে নতুন উত্তেজনা, ২০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট
বিশ্ব অর্থনীতিতে ফের ঝড় তুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চিনের উদ্দেশে সাফ জানালেন— “আমরা চাইলে চিনকে ধ্বংস করে দিতে পারি।” শুল্কযুদ্ধের আবহে এই বিস্ফোরক হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, প্রয়োজনে বেজিংয়ের উপর ২০০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হতে পারে।
ঘটনাচক্রে, সোমবার হোয়াইট হাউসে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েই চিনকে নিশানা করেন ট্রাম্প। দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রনেতাকে পাশে নিয়ে ট্রাম্প বলেন— “ওদের হাতে কিছু তাস আছে। আমাদের কাছেও অসাধারণ কিছু তাস রয়েছে। কিন্তু আমি সেই তাস খেলতে চাই না। যদি খেলি, তবে চিন ধ্বংস হয়ে যাবে।” যদিও এর সঙ্গে সঙ্গে তিনি জানান, বেজিংয়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষপাতী তিনি।
ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারির কেন্দ্রে রয়েছে বিরল খনিজ ‘চুম্বক’। বিশ্ব বাজারে এই চুম্বকের প্রায় ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে চিন। আমেরিকার আশঙ্কা, বাণিজ্যিক সংঘাতে চাপে পড়ে চিন যদি এই চুম্বক রফতানি বন্ধ করে দেয়, তবে তা সরাসরি মার্কিন স্বার্থে আঘাত হানবে। ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন— “আমাদের জন্য চুম্বক দিতেই হবে ওদের। না হলে আমরা ২০০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে দেব।”
গত এপ্রিল থেকে ওয়াশিংটনে চুম্বক রফতানি সাময়িক ভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছিল বেজিং। তবে জুন থেকে ফের রফতানি বেড়েছে। মার্কিন তথ্য অনুযায়ী, জুনে রফতানি ৬৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, জুলাইয়ে তা আরও ৭৬ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে নতুন বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনার প্রক্রিয়া চলছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই চিনা প্রতিনিধিদল আলোচনার জন্য ওয়াশিংটন সফরে যেতে পারে। এই আবহেই ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
চিনের ‘চুম্বক-তাস’-এর জবাবে আমেরিকার ‘বোয়িং-তাস’-এর কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, চিন যখন চুম্বক রফতানি কমিয়ে দিয়েছিল, তখন আমেরিকাও ইচ্ছাকৃতভাবে বোয়িং বিমানের যন্ত্রাংশ পাঠানো বন্ধ করে দেয়। এর ফলে চিনের প্রায় ২০০ বিমান মাটিতে বসে ছিল।
বিশ্ব অর্থনীতির দুই দাপুটে শক্তির মধ্যে এই ধরনের হুমকি-চাপানউতোরে শঙ্কিত বাজার বিশেষজ্ঞরা। অনেকের মতে, বাণিজ্যচুক্তির আগে চিনকে কূটনৈতিক চাপে রাখতেই ট্রাম্প এই বার্তা দিচ্ছেন। তবে এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করছে বিশেষজ্ঞ মহল।




