কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা , ২৬ অগস্ট :
ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা ‘সার’–এর বিরুদ্ধে দেশজুড়ে জনমত গড়ে তোলার লক্ষ্যে আগামী ১ সেপ্টেম্বর বিহারের রাজধানী পাটনায় বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’–র তরফে আয়োজিত হতে চলেছে বড় জনসভা। বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতানেত্রীদের উপস্থিতিতে এই সভা বিজেপি এবং মোদী সরকারের বিরুদ্ধে কার্যত এক বিরাট শক্তি–প্রদর্শন হতে চলেছে বলেই সূত্রের খবর।
এই মুহূর্তে কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বিহারের বিভিন্ন প্রান্তে “ভোটার অধিকার যাত্রা” করছেন। যাত্রার চূড়ান্ত পর্বে পাটনার রাজপথে ভ্রাম্যমাণ মঞ্চে একত্রিত হয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগবেন বিরোধী শিবিরের নেতা–নেত্রীরা। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ জনসভায় উপস্থিত থাকবেন না তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
দলীয় সূত্রে খবর, পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচির কারণেই তৃণমূলের দুই শীর্ষ নেতা ওই দিন সভায় যেতে পারবেন না। তবে দলের পক্ষ থেকে প্রথম সারির এক সাংসদকে পাটনায় পাঠানো হতে পারে। জানা গিয়েছে, ব্যক্তিগতভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সভায় যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। দিল্লিতে রাহুলের বাসভবনে আয়োজিত এক ডিনারে অভিষেককে তিনি এই আমন্ত্রণ জানান। সেই সময় অভিষেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তৃণমূল অবশ্যই প্রতিনিধি পাঠাবে, যদিও তিনি নিজে বা মমতা পাটনায় উপস্থিত থাকবেন কি না, তা নিয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি।
‘সার’ বিতর্কের আবহেই কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি লোকসভায় ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিল পেশ করে এবং সেটিকে যৌথ সংসদীয় কমিটিতে (জেপিসি) পাঠানো হয়। কিন্তু বিরোধীদের অভিযোগ, এই কমিটিতে তাঁদের মতামত কার্যত গুরুত্ব পায় না। ওয়াকফ সংশোধনী বিলের সময়েও বিরোধী সাংসদদের দেওয়া ‘ডিসেন্ট নোট’ প্রায় উপেক্ষা করা হয়েছিল বলে দাবি ওঠে।
তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি ও আম আদমি পার্টি ইতিমধ্যেই জেপিসি বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিবসেনা (ইউবিটি) এবং কংগ্রেসও একই পথে হাঁটতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁদের দল জেপিসিতে যোগ দিতে আগ্রহী নয়। ফলে ৩১ সদস্যের কমিটি গঠন নিয়েই চাপে রয়েছে কেন্দ্র। লোকসভা ও রাজ্যসভার বিরোধী সাংসদের নাম না আসায় কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে এই প্রক্রিয়া।
এই পরিস্থিতিতে বিরোধীদের বিরুদ্ধে পাল্টা সুর চড়িয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “জেপিসি–তে সব দলের সদস্যরাই বক্তব্য রাখেন। আমরা সকলকে আহ্বান জানিয়েছি। তাঁরা না এলে সরকারের কিছু করার নেই।”
পাশাপাশি শাহ টেনে এনেছেন ২০১৩ সালের বহুল আলোচিত ঘটনা। দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারের সময়ে দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের রক্ষায় আনা একটি অর্ডিন্যান্স প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলেছিলেন রাহুল গান্ধী। সেই প্রসঙ্গ টেনে শাহের কটাক্ষ— “তিনটি নির্বাচনী পরাজয়ের পরে রাহুল গান্ধীর নৈতিক অবস্থানই বদলে গিয়েছে বোধহয়।”
শাহের প্রশ্ন, তখন দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নেওয়া রাহুল আজ কেন ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্দেশ্যে আনা ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিলের বিরোধিতা করছেন? তাঁর দাবি, এই বিল কার্যকর হলে দেশে এক統ক নীতির আওতায় ভোটার তালিকা সংক্রান্ত কাজ সহজ হবে। শাহের মন্তব্য, “নীতিবোধ ভোটের জয়–পরাজয় দেখে বদলালে তা দেশের গণতন্ত্রের পক্ষে শুভ নয়।”
পাটনার সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিরোধী শিবির যেমন ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছে, তেমনই তৃণমূলের অনুপস্থিতি নানা প্রশ্ন তুলছে রাজনৈতিক মহলে। বিশেষত বাংলায় আসন্ন লোকসভা ভোটের প্রেক্ষিতে তৃণমূল ও কংগ্রেসের দূরত্ব স্পষ্ট হচ্ছে বলেই অনেকের অভিমত।




