কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা , ২৬ অগস্ট :
অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে বউবাজারের মেট্রো বিপর্যয়ে গৃহহীন হয়ে পড়া পরিবারগুলির। সোমবার কলকাতা পুরসভার বৈঠকে কলকাতা মেট্রো রেল কর্পোরেশন লিমিটেড (কেএমআরসিএল)–এর প্রতিনিধিদের স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম—২০২৬ সালের দুর্গাপুজোর আগেই ক্ষতিগ্রস্তদের স্থায়ী বাড়ি তৈরি করে দিতে হবে।
পুরসভার বৈঠক শেষে মেয়র বলেন, “আমরা কেএমআরসিএল–কে জানিয়েছি, সর্বোচ্চ ন’মাসের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। অক্টোবর থেকেই নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।”
চৌরঙ্গির বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বিশ্বরূপ দে–সহ একাধিক জনপ্রতিনিধি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
সূত্রের খবর, কেএমআরসিএল–এর তরফে প্রথমে নতুন বাড়ি তৈরির জন্য দু’বছরের সময়সীমা চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু পুরসভা তাতে রাজি হয়নি। দীর্ঘ আলোচনার পরে শেষমেশ ন’মাসের সময়সীমায় সম্মতি দেন কেএমআরসিএল–এর প্রতিনিধিরা।
এছাড়া কেএমআরসিএল–এর পক্ষ থেকে শর্ত রাখা হয়, নতুন বাড়িগুলি তৈরি হলে পানীয় জল ও নিকাশির ব্যবস্থা পুরসভাকেই করতে হবে। মেয়র বৈঠকেই সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
বউবাজারের পুনর্নির্মাণ নিয়ে যাতে গাফিলতি না হয়, তার জন্য প্রতি তিন মাস অন্তর মেয়রের কাছে অগ্রগতির রিপোর্ট দেবে কেএমআরসিএল। পাশাপাশি, নতুন নির্মাণগুলি আগামী ১০ বছর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের নজরদারিতে থাকবে।
পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে, অধিকাংশ বাড়ি ছোট হওয়ায় সেগুলি নির্মাণে তিন থেকে চার মাসের বেশি সময় লাগবে না। প্রথমে ভেতরের গলির ভেঙে পড়া বাড়িগুলির কাজ শুরু হবে। পরে বড় রাস্তার ধারে মেট্রো প্রকল্পের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে সেখানকার বাড়িগুলির পুনর্নির্মাণ করা হবে।
উল্লেখ্য, ধর্মতলা থেকে সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত মেট্রো সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ চলাকালীন ২০১৯ সালে বউবাজার এলাকায় দুর্গাপিতুরি ও স্যাকড়াপাড়া লেনে ভয়াবহ ধস নামে। এই ঘটনায় অন্তত ১৪টি বাড়ি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে এবং প্রায় ৭৪টি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই সময় থেকে বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে অস্থায়ী আশ্রয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
মেয়রের আশ্বাসে নতুন করে আশার আলো দেখছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। স্থানীয়দের মতে, “এতদিন আমরা শুধু প্রতিশ্রুতি শুনেছি। যদি সত্যিই ২০২৬–এর পুজোর মধ্যে বাড়ি তৈরি হয়ে যায়, তবে সেটাই হবে আমাদের জীবনের সব থেকে বড় উৎসব।”




