spot_img
25 C
Kolkata
Sunday, December 7, 2025
spot_img

ভারতীয় সেনার গোপন তথ্য ফাঁস: পাক গোয়েন্দাদের সঙ্গে যোগসূত্রে ধৃত CRPF জওয়ান, তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য !

কলকাতা টাইমস নিউজ  : নিজস্ব সংবাদদাতা :নয়াদিল্লি, ২৬  অগস্ট :

 দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্দরে নেমে এসেছে এক গভীর ছায়া। ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)-এর হাতে ধরা পড়েছে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা। পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রেখে ভারতের সামরিক গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (CRPF) এএসআই পদমর্যাদার জওয়ান মোতিরাম জাট।

তদন্তে উঠে এসেছে, গত প্রায় দু’বছর ধরে পাকিস্তানি এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে মোতিরাম নিয়মিত দেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করতেন। বিনিময়ে তিনি মাসিক প্রায় ১২ হাজার টাকা পেতেন, যা সরাসরি তাঁর এবং স্ত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হতো। শুধু দিল্লি নয়, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তিসগড়, অসম এবং পশ্চিমবঙ্গের মতো একাধিক রাজ্য থেকেও এই টাকা পাঠানো হতো বলে জানা গেছে।

NIA সূত্রে খবর, পাকিস্তানি গোয়েন্দারা মোতিরামের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে ‘সেলিম আহমেদ’ নামে এক কোড নাম ব্যবহার করতেন। মোতিরামের কল রেকর্ড এবং ইন্টারনেট প্রোটোকল ডিটেলস খতিয়ে দেখে গোয়েন্দারা অন্তত ১৫টি সন্দেহজনক নম্বর চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে চারটি সেনাবাহিনীর, চারটি আধা-সামরিক বাহিনীর এবং সাতটি কেন্দ্রীয় সরকারি দফতরের কর্মীদের নম্বর। এই তথ্য এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে শাহজাদ নামে এক ব্যক্তির নামও জড়িয়েছে। উত্তরপ্রদেশ অ্যান্টি টেররিজম স্কোয়াড (ATS) সম্প্রতি শাহজাদকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযোগ, তিনিও পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করতেন। জেরায় শাহজাদ জানিয়েছেন, এক ট্রেনযাত্রীর অনুরোধে তিনি মোতিরামের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতেন।

গোয়েন্দাদের জেরায় মোতিরাম স্বীকার করেছেন, এক মহিলা সাংবাদিক পরিচয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রতিদিন ফোন ও ভিডিও কলে যোগাযোগ রেখে ধীরে ধীরে তাঁকে প্রলুব্ধ করেন। পরে মোতিরাম গোপন নথি পাঠাতে শুরু করেন। এরপর এক ব্যক্তি নিজেকে পাকিস্তানি গোয়েন্দা কর্তা পরিচয় দিয়ে সরাসরি তাঁর সঙ্গে কথা বলতেন।

ফাঁস হওয়া তথ্যের প্রকৃতি

মোতিরামের কাছ থেকে যে সব তথ্য পাকিস্তানের হাতে গিয়েছে বলে অভিযোগ, তার মধ্যে রয়েছে—

  • সেনা মোতায়েন সংক্রান্ত নথি

  • সরকারি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের তথ্য

  • সেনাদের গতিবিধি

  • সন্ত্রাসবাদীদের গতিবিধি সম্পর্কিত রিপোর্ট

নজরদারি ও গ্রেপ্তার

NIA সূত্রে জানা গেছে, মোতিরাম ASI পদে কর্মরত ছিলেন। বিশেষ করে পহেলগামে জঙ্গি হামলার পর থেকেই তাঁর গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর কার্যকলাপ দেখে প্রথমে সতর্ক হয় CRPF। এরপর প্রাথমিক তদন্তে পর্যাপ্ত প্রমাণ মেলার পর তাঁকে হেফাজতে তুলে দেয় NIA।

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার আশঙ্কা, মোতিরাম একা নন। পাকিস্তানি গোয়েন্দারা ভারতের সেনা ও আধা-সামরিক বাহিনীর অন্তত ১৫ জন কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। এই নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলতে এখন তৎপর হয়েছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি।

এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করছে, ভারতের অভ্যন্তরে পাকিস্তানের গুপ্তচরবৃত্তির চক্র কতটা গভীরে প্রোথিত। গোয়েন্দাদের দাবি, সামনের দিনগুলিতে আরও বড় নেটওয়ার্ক ফাঁস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,800SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks