কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা : বিহার ,২৭ অগস্ট :
বিহারের রাজনীতিতে ফের তীব্র কটাক্ষ শোনা গেল আরজেডি নেতা ও প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদবের কণ্ঠে। বুধবার ভোটাধিকার সংক্রান্ত বিরোধীদের আন্দোলনে অংশ নিয়ে তিনি এনডিএ-কে (National Democratic Alliance) ব্যাখ্যা করলেন একেবারেই অন্যভাবে। তাঁর কথায়— “এনডিএ মানে ‘নাহি দেন্গে অধিকাৰ’।’’
তেজস্বীর দাবি, বিজেপি-জেডিইউ জোট রাজ্যে মানুষের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে এবং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তাদের পরাজয় নিশ্চিত। তিনি বলেন, “জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে। ভোট চুরি যতই করা হোক, মানুষ এখন সচেতন। ভোট তারা রক্ষা করবে। এনডিএ-র ভরাডুবি হবেই।”
এদিন বিহারের দরভাঙ্গার গঙ্গওয়ারা মহাবীর স্থান থেকে শুরু করে যাত্রা এগোয় মুজফ্ফরপুর হয়ে সীতামারহির দিকে। চলমান ১৬ দিনের এই ‘ভোটার অধিকাৰ যাত্রা’-র নেতৃত্ব দিচ্ছেন কংগ্রেসের সাংসদ রাহুল গান্ধী ও আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব। যাত্রাপথে সাধারণ মানুষকে নির্বাচনী তালিকার অনিয়ম ও ভোট চুরির অভিযোগের বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে।
যাত্রায় একে একে যোগ দিয়েছেন দেশের নানা প্রভাবশালী বিরোধী নেতা। মঙ্গলবার সুপৌলে রাহুল গান্ধী ও তেজস্বীর সঙ্গে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র, তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেভন্ত রেড্ডিও পা মেলান। প্রিয়াঙ্কা সরাসরি বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন, “যে বিজেপি দেশের মানুষের আস্থা হারিয়েছে, তারা ভোট চুরি করে ক্ষমতায় থাকতে চাইছে। মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব, অভিবাসন থেকে শুরু করে আর্থিক সংকট— প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যর্থ এনডিএ সরকার এখন শুধু ভোট চুরির ষড়যন্ত্র করছে।”
বিরোধী জোটের এই আন্দোলনে এবার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিনও যোগ দিতে চলেছেন বলে জানা গিয়েছে।
আরজেডি থেকে কংগ্রেস— বিরোধীদের মূল সুর, বর্তমান রাজ্য সরকার মানুষের সমস্যার সমাধান করতে ব্যর্থ। গ্রামীণ অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে, তরুণরা চাকরি পাচ্ছে না, দুর্নীতি ও মূল্যবৃদ্ধি চেপে ধরেছে পরিবারগুলিকে। তার মধ্যেই ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার অভিযোগে নতুন করে তীব্র হচ্ছে জনরোষ।
পুরো যাত্রা জুড়ে প্রায় ১,৩০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করবে বিরোধীরা। ২০টি জেলায় জনসভা, মিছিল ও পথসভা হবে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর পাটনায় মহাসভা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই আন্দোলন।
বিহার বিধানসভা নির্বাচন এ বছরই হওয়ার সম্ভাবনা। তবে এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের তারিখ ঘোষণা করেনি। বিরোধীরা মনে করছে, নির্বাচনের আগে এই ‘ভোটাধিকার যাত্রা’ রাজ্যের জনমনে বড় প্রভাব ফেলবে।




