কলকাতা টাইমস নিউজ :ডেস্ক : ২৭ অগস্ট :
গোলকোন্ডার হীরের ঐতিহাসিক ছায়া নতুন প্রেমকাহিনির ঝলকে
পপ তারকা টেলর সুইফট ও এনএফএল তারকা ট্রাভিস কেলসের বাগদানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভক্তমহল জুড়ে তৈরি হয়েছে তুমুল উন্মাদনা। কিন্তু এই বাগদানের আসল আকর্ষণ হয়ে উঠেছে সুইফটের আঙুলে থাকা ঝলমলে আংটি—যেটি শুধু দামে নয়, ইতিহাস ও সম্ভাব্য উৎস নিয়েও বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে।
আংটির কেন্দ্রস্থলে বসানো রয়েছে এক বিরল প্রাচীন ধাঁচের “ওল্ড মাইন ব্রিলিয়ান্ট কাট” হীরা। দীর্ঘায়িত অ্যান্টিক কুশন শেপে কাটা এই হীরার ওজন আনুমানিক ৭ থেকে ১০ ক্যারেট। ১৮ ক্যারেট হলুদ সোনার ফ্রেমে হাতে খোদাই করা সূক্ষ্ম নকশা যুক্ত এই শিল্পকর্মের বাজারমূল্য প্রায় ৪.৮ কোটি টাকা (৫.৫ লক্ষ মার্কিন ডলার) বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই আংটি কোনও দোকানে পাওয়া সাধারণ ডিজাইনের নয়। বরং কেলস নিজেই নিউ ইয়র্ক-ভিত্তিক জুয়েলারি ডিজাইনার কাইন্ড্রেড লুবেক (আর্টিফেক্স ফাইন জুয়েলারি)-এর সঙ্গে যৌথভাবে এটি তৈরি করিয়েছেন। এর ভিন্টেজ স্টাইল—রোমান্টিক, কালজয়ী ও ইতিহাসে ভরপুর—টেলর সুইফটের ব্যক্তিত্বের সঙ্গেই যেন মিশে গেছে।
গয়না বিশেষজ্ঞদের মতে, আংটির সবচেয়ে অনন্য দিক হলো এর “ওল্ড মাইন কাট” শৈলী। এই কাট উদ্ভব হয়েছিল ১৮শ ও ১৯শ শতকে, যখন পৃথিবীর প্রধান হীরের উৎস ছিল ভারত। বিশেষত বর্তমান অন্ধ্রপ্রদেশের গোলকোন্ডা অঞ্চল থেকেই এই ধরনের পাথর খনন করা হত।
প্রায় দুই হাজার বছর ধরে গোদাবরী ও কৃষ্ণা নদীর উপত্যকা থেকে পাওয়া হীরা দুনিয়ার বাজার দখল করেছিল। গোলকোন্ডার হীরা তাদের অদ্বিতীয় উজ্জ্বলতা ও বিশুদ্ধতার জন্য খ্যাত ছিল। কোহিনূর ও হোপ ডায়মন্ড-এর মতো কিংবদন্তি হীরাও সেখান থেকেই খনন হয়েছিল।
এতদিন পরও যখন কোনও আংটিতে পুরনো ভিন্টেজ কুশন বা অ্যান্টিক ওল্ড মাইন স্টোন ব্যবহৃত হয়, তখনই গোলকোন্ডা-উৎপত্তির গুঞ্জন ছড়ায়। টেলর সুইফটের আংটিও সেই ঐতিহাসিক যোগসূত্রকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। যদিও এর সত্যতা প্রমাণ করতে প্রমাণপত্র বা উৎসের সার্টিফিকেট প্রয়োজন, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন আংটির ডিজাইন ও সময়কাল ভারতের সঙ্গেই এক অদৃশ্য সেতুবন্ধন তৈরি করছে।
নিঃসন্দেহে, টেলর সুইফটের বাগদানের আংটি শুধু একটি গয়না নয়, বরং এটি ইতিহাস, শিল্প, প্রেম ও সম্ভাব্য ভারতীয় ঐতিহ্যের এক অসাধারণ মেলবন্ধন। ভক্তদের চোখে এটি যেমন রোমান্টিক ও কালজয়ী, তেমনি গবেষকদের কাছে এটি হীরের বাণিজ্য ইতিহাসের সঙ্গে নতুন করে সংযোগ স্থাপনের এক অনন্য উদাহরণ।
টেলরের জীবনের এই নতুন অধ্যায় তাই আরও ঝলমলে হয়ে উঠছে, আঙুলের আংটির ভেতর লুকোনো গোলকোন্ডার গৌরবময় ইতিহাসের ঝলক নিয়েই।




