কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা :নয়াদিল্লি ,২৭ অগস্ট :
ভারতীয় রফতানির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হাজির করল মার্কিন প্রশাসন। বুধবার সকাল ৯টা ৩১ মিনিট (ভারতীয় সময়) থেকে কার্যকর হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত ৫০ শতাংশ শুল্ক। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ সাধারণ শুল্কের পাশাপাশি আরও ২৫ শতাংশ জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। অভিযোগ, রাশিয়া থেকে তেল কিনে ভারত ইউক্রেন যুদ্ধকে পরোক্ষভাবে অর্থ জুগিয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে হোয়াইট হাউস প্রকাশিত সাত পাতার নির্দেশিকায় জানানো হয়, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করে যাচ্ছে। এর জেরেই ভারতীয় পণ্যে বাড়তি শুল্ক চাপানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আমেরিকার পূর্বাঞ্চলীয় সময় ২৭ অগস্ট রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে (ভারতীয় সময় বুধবার সকাল ৯টা ৩১ মিনিট) এই শুল্ক কার্যকর হয়েছে।
আমেরিকার দাবি, ভারতের এই পদক্ষেপ রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্রকে জ্বালানি জোগাচ্ছে। যদিও ভারত পাল্টা যুক্তি দিচ্ছে, রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যে শুধু ভারতই নয়, আমেরিকা ও ইউরোপীয় দেশগুলিও সক্রিয়।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানাচ্ছে—
-
২০২৪ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন–রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য হয়েছে প্রায় ৬৭,৫০০ কোটি ইউরো।
-
২০২৩ সালে সেই বাণিজ্য ছিল ১৭,২০০ কোটি ইউরো।
-
২০২৪ সালে ইউরোপের প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি দাঁড়িয়েছে ১৬৫ লক্ষ টন, যা ২০২২ সালের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে।
এছাড়া সার, খনিজ, ইস্পাত, ইউরেনিয়াম–সহ নানা পণ্য এখনও রাশিয়া থেকে কিনছে ইউরোপ ও আমেরিকা। ফলে কেবল ভারতকে দোষারোপ করা অন্যায্য বলেই মনে করছে নয়াদিল্লি।
ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। বৈঠকে ছিলেন অর্থমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, ঊর্ধ্বতন আমলারা ও অর্থনীতিবিদরা। আলোচনার মূল বিষয় ছিল—
-
আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার পথ
-
অভ্যন্তরীণ বাজারে ভোক্তা চাহিদা বৃদ্ধি
-
বিদেশি লগ্নি টানার কৌশল
অহমদাবাদের এক সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ‘‘যতই চাপ আসুক, ভারত আত্মনির্ভরতার পথে এগোবে। কৃষক, গবাদি পশুপালক ও ক্ষুদ্র শিল্পের স্বার্থে কোনও আপস হবে না।’’
সাম্প্রতিক সমীক্ষা বলছে, মার্কিন শুল্ক কার্যকর হলে ভারতের রফতানি খাতে প্রায় ৪০০০ কোটি ডলার (প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ কোটি টাকা) ধাক্কা আসতে পারে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে,
-
অভ্যন্তরীণ কেনাকাটা বৃদ্ধি,
-
নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি,
-
বহুমুখী বাজার খোঁজা
—এসবের মাধ্যমে চাপ কিছুটা সামলানো সম্ভব।
জার্মান সংবাদপত্র ফ্রাঙ্কফুর্টার অলগেমেইনে দাবি করেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প অন্তত চার বার মোদীকে ফোন করার চেষ্টা করেছেন। তবে দিল্লি তাতে সাড়া দেয়নি। কূটনৈতিক মহল মনে করছে, ভারত এখন মার্কিন চাপের বদলে বিকল্প বাজার ও জোটের দিকে ঝুঁকতে পারে।
-
ট্রাম্প দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর প্রথম কংগ্রেস ভাষণে ইউক্রেন–রাশিয়া যুদ্ধের প্রসঙ্গ স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।
-
বাইডেন প্রশাসনের নীতির সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেছেন, ‘‘আমেরিকা আর অন্য দেশের ভরসায় থাকবে না।’’
-
বিদেশনীতি নিয়ে তাঁর অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের শুল্ক সিদ্ধান্ত শুধু অর্থনৈতিক নয়, কূটনৈতিক সম্পর্কেও নতুন অধ্যায় লিখে দিল। ভারতের সামনে এখন চ্যালেঞ্জ—কীভাবে রফতানি ক্ষতি সামলে আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলা করা যায়।




