spot_img
17 C
Kolkata
Tuesday, January 20, 2026
spot_img

ঠাকুরনগরে ‘সিএএ ক্যাম্প’ ঘিরে বিতর্ক: হাইকোর্টে মামলার হুঁশিয়ারি গোপাল শেঠের !

কলকাতা টাইমস নিউজ  : নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা,২৭ অগস্ট :

বাংলায় ফের তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতার কেন্দ্রবিন্দু ঠাকুরনগর। মতুয়া সমাজের ‘পবিত্র তীর্থক্ষেত্র’ বলে পরিচিত এই এলাকায় নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)–কে ঘিরে শিবির বসানো এবং ধর্মীয় শংসাপত্র বিলিকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে উঠেছে, অন্যদিকে ঠাকুর পরিবারের দুই সদস্য শান্তনু ঠাকুর এবং সুব্রত ঠাকুরের মধ্যে গৃহবিবাদ নতুন করে প্রকাশ্যে এসেছে।

নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে দেশে চালু হওয়া ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (সার) প্রক্রিয়ার পর থেকেই উদ্বাস্তু ও মতুয়া মহলের একাংশে আতঙ্ক ছড়ায়। সেই আতঙ্ককেই হাতিয়ার করে ঠাকুর পরিবারের দুই সদস্য— কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর এবং তাঁর ভাই গাইঘাটা বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর— আলাদা আলাদা শিবির শুরু করেছেন ঠাকুরবাড়ির প্রাঙ্গণে।
এই শিবির থেকেই দেওয়া হচ্ছে ‘মতুয়া কার্ড’ এবং ধর্মীয় শংসাপত্র। বিনিময়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। নাট মন্দিরের সামনে শান্তনুর ঘনিষ্ঠরা টেবিল–চেয়ার সাজিয়ে কম্পিউটার নিয়ে বসেছেন। চারপাশে ব্যানার–ফ্লেক্সে ভরে গিয়েছে। অন্যদিকে, সুব্রত ঠাকুর নিজের বাড়ির সামনের শিবির থেকে একই কাজ চালাচ্ছেন।

একই পরিবারের দুই সদস্যের এই শিবির কার্যত মতুয়া মহাসঙ্ঘকে বিভক্ত করেছে। শান্তনু বিজেপির সাংসদ, আর সুব্রত গাইঘাটার বিজেপি বিধায়ক— ফলে এই বিরোধ সরাসরি বিজেপির ভেতরকার অস্বস্তি বাড়াচ্ছে।
শিবিরে দেওয়া শংসাপত্রে লেখা থাকছে ‘অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘ’। এমনকি, কিছু ফ্লেক্সে দেখা যাচ্ছে— ‘‘কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হিন্দুত্ব ধর্মীয় সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়’’— যা রাজনৈতিক মহলের কাছে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

এই আবহে বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল নেতা গোপাল শেঠ সরব হয়েছেন। সোমবার তিনি সরাসরি অভিযোগ করেছেন, ‘‘বেআইনি ভাবে সিএএ ক্যাম্প করে টাকা তোলা হচ্ছে। বাংলাদেশি নাগরিকদের টাকার বিনিময়ে নাগরিকত্বের আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে।’’
তাঁর দাবি, বিষয়টি নিয়ে তিনি কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্য সরকারের কাছে অভিযোগ জানালেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই এবার কেন্দ্র ও রাজ্যের বিরুদ্ধেই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে শান্তনু ঠাকুর বলেন, ‘‘সমস্ত নথি খতিয়ে দেখে মতুয়া মহাসঙ্ঘের সদস্যদের শংসাপত্র দেওয়া হচ্ছে, যাতে তাঁরা সিএএ–র জন্য আবেদন করতে পারেন।’’ তবে গোপাল শেঠের মামলার হুঁশিয়ারি প্রসঙ্গে শান্তনু বা সুব্রত— কারও পক্ষ থেকেই কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, লোকসভা নির্বাচনের আগে মতুয়া ভোটের অঙ্ক কষে বিজেপি যে কৌশল নিয়েছিল, ঠাকুর পরিবারের এই বিভাজন সেই সমীকরণকে নড়বড়ে করে দিচ্ছে। একই সঙ্গে, গোপাল শেঠের হাইকোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নতুন রাজনৈতিক অঙ্কের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,800SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks