কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা :গুয়াহাটি , ২৭ অগস্ট :
অসমের ধুবড়ি জেলা সাম্প্রদায়িক অশান্তির আঁচে এখনও তপ্ত। ১৩ জুন রাত থেকে শুরু হওয়া ‘শ্যুট অ্যাট সাইট’ নির্দেশিকা এখনও বহাল রয়েছে। আর সেই নির্দেশ আগামী দুর্গাপুজো পর্যন্ত জারি থাকবে বলেই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা।
মুখ্যমন্ত্রীর সাফ কথা— “ধুবড়িতে হিন্দুরা সংখ্যালঘু। মৌলবাদীদের হাত থেকে তাঁদের সুরক্ষা দেওয়া রাজ্য সরকারের দায়িত্ব। তাই এই নির্দেশ প্রত্যাহার করা হচ্ছে না। দুর্গাপুজোর সময়েও তা বহাল থাকবে।”
গত ১৩ জুন ধুবড়িতে হঠাৎ করে অশান্তি দেখা দেয়। মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘোষণা করেছিলেন রাতের বেলা ‘শ্যুট অ্যাট সাইট’ অর্ডার। তাঁর অভিযোগ ছিল, একটি বিশেষ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে অশান্তি পাকাচ্ছে। সেই সময় থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিরাপত্তা বাহিনীকে চরম সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়।
অশান্তির দশ দিন পর ফের ধুবড়ি সফরে যান হিমন্ত বিশ্বশর্মা। সেখানেই তিনি জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ১৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১১ জন বহিরাগত বলে শনাক্ত। ওই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রুজু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা স্পষ্ট— “রাজ্য সরকার সাম্প্রদায়িক শক্তিকে কোনওভাবেই ছাড় দেবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনও আপস হবে না।”
বর্তমানে ধুবড়ি আপাত শান্ত। সম্প্রতি বড় কোনও অশান্তির খবর মেলেনি। তবুও মুখ্যমন্ত্রী সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন— “ধুবড়িতে কেউ যদি আবার গোলমাল পাকানোর চেষ্টা করে, পরিণতি ভালো হবে না।”
পূর্ব অসমে সাম্প্রদায়িক অশান্তি নিয়ন্ত্রণে এই কঠোর অবস্থানকে অনেকে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখছেন। বিশেষত, দুর্গাপুজোর সময় শ্যুট অ্যাট সাইট নির্দেশ বহাল রাখার সিদ্ধান্ত আসন্ন উৎসবমুখর পরিবেশে নিরাপত্তা কড়াকড়ির ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাজনীতিক মহলের মতে, হিন্দু সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে বিজেপি সরকার একদিকে প্রশাসনিক দৃঢ়তা দেখাচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধীদের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দিচ্ছে।




